‘ভাঙে, জোড়া দেয় আবার ভাঙে’
পিচ, ইট সুরকি উঠে গেছে অনেক আগেই। সংস্কারের অভাবে সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে জমে হাঁটু পানি। দিনের পর দিন চলছে এই ভোগান্তি। কিন্তু দেখার নেই কেউ। এ চিত্র আশুলিয়ার আনোয়ার জং সড়কের।
urgentPhoto
পাকা ওই সড়কটির গায়ে কবে পিচ আর ঢালাইয়ের আস্তর পড়েছিল তা যেন ভুলতে বসেছে এলাকাবাসী। মাত্র দেড় কিলোমিটার বেহাল সড়কের কারণে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে সাভারের ২০ লক্ষাধিক মানুষ। সড়ক ও জনপথ বিভাগের স্বল্প দূরত্বের এই রাস্তা মেরামতের অভাবে প্রায় ১৫ কিলোমিটার বাড়তি পথ ঘুরে রাজধানীতে যেতে হচ্ছে সাভার ও আশুলিয়ার বাসিন্দাদের।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘ রাস্তা মোটামুটি আইজ তিন-চার বছর ধরে এ রকম। ভাঙে আবার জোড়া দেয়, আবার ভাঙে, আবার জোড়া দেয়।’
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘গার্মেন্ট শ্রমিকরা প্রত্যেক দিনই এখানে চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, যে কারণে রোডের (সড়ক) মধ্যে যে কাদা এবং পানি, যে কারণে গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।’
একজন অটোরিকশাচালক বলেন, ‘গাড়ি উইল্টে যায়। চলা যায় না। যাত্রীর সমস্যা। যাত্রীর হাত-পাউ ভাঙে।’
স্বল্প দূরত্বের সড়কটি এখন পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সিঅ্যান্ডবি থেকে আশুলিয়া বাজার হয়ে উত্তরা গিয়ে মিশেছে এই সড়ক। এটির চারাবাগ থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত রাস্তা সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে হলেও দীর্ঘদিন এদিকে নজর পড়েনি কারো।
প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে সড়কটিতে চলতে হচ্ছে পথচারীদের। তবে এটিকে যোগাযোগ উপযোগী করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) ঢাকা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী আতাউর রহমান বলেন, ‘রাস্তার দুই দিকে ডেভেলপ স্টেট থাকায় পানি নিষ্কাশনের কোনো জায়গা নেই। এ জন্য বিটুমিন পেভমেন্ট (পিচের আস্তর) যখনই আমরা করি, তখন এটা আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তো এই জন্য আমরা চিন্তা করেছি, এই খানে এই বছর কাজ হাতে নেব। আগামী বছর রিজিড পেভমেন্ট (ইট-বালি-সিমেনেটর আস্তর) করে দেব।’

এদিকে বিরুলিয়া সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ায় বাড়তি চাপ পড়েছে এই সড়কের ওপর। তবে চলাচল অযোগ্য সড়কটির গভীর গর্তে যানবাহন আটকে পড়ায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের। স্বীকার করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘পাস হয়ে গেছে। রিজিড পেভমেন্ট হয়ে গেছে। আর রিজিড পেভমেন্ট বর্ষাকালেও করা যায়।’
তবে বাস্তবতা হলো, সড়কটির সংস্কার কাজের শুরু না হওয়ায় নিত্য দুর্ভোগ চলছেই। আর তা মেনেই ঝুঁকি নিয়ে পথ চলছেন সড়ক ব্যবহারকারীরা।

জাহিদুর রহমান