নয় বছর পরও অম্লান শিল্পপতি হারুণার রশিদ খান মুন্নু
একটি ছবি কখনো কখনো হাজার শব্দের চেয়েও বেশি কথা বলে। কিছু মুহূর্ত কেবল ক্যামেরায় বন্দী হয় না, ইতিহাসের পাতায়ও অমর হয়ে থাকে। ২০০৮ সালের তেমনই এক ঐতিহাসিক ছবির সাক্ষী মানিকগঞ্জবাসী। একই দিনে, একই টেবিলে, একই স্বপ্নকে বুকে নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন বাবা ও মেয়ে।
একজন ছিলেন দেশের শিল্পপতি, সাবেক মন্ত্রী ও প্রবীণ জননেতা মরহুম হারুণার রশিদ খান মুন্নু। অন্যজন তার সুযোগ্য কন্যা আফরোজা খানম রিতা, যিনি বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ছবির সেই মুহূর্তটি কেবল একটি মনোনয়নপত্র জমার আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; তা ছিল একটি রাজনৈতিক আদর্শের উত্তরাধিকার ও জনসেবায় নিবেদিত এক পরিবারের নীরব অঙ্গীকার।
আজ শনিবার (১ আগস্ট) শিল্পপতি, সাবেক মন্ত্রী ও ঐতিহ্যবাহী মুন্নু গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম হারুণার রশিদ খান মুন্নুর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৭ সালের ১ আগস্ট তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। নয় বছর পেরিয়ে গেলেও তার কর্ম, আদর্শ এবং অতুলনীয় অবদান আজও দেশজুড়ে সমানভাবে উচ্চারিত হয় শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে।
মানিকগঞ্জের কৃতী সন্তান হারুণার রশিদ খান মুন্নু ছিলেন এমন এক দূরদর্শী মানুষ, যিনি শিল্পকে শুধু ব্যবসা হিসেবে দেখেননি; দেখেছিলেন মানুষের ভাগ্য বদলে দেওয়ার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে। তার গড়ে তোলা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। দেশের শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানে তার ভূমিকা চিরস্মরণীয়।
রাজনীতিতেও তিনি ছিলেন শতভাগ উন্নয়নমনস্ক ও মানবকল্যাণে নিবেদিত। জাতীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প অবকাঠামো এবং জনকল্যাণে তার নেওয়া নানা উদ্যোগ সাধারণ মানুষের গভীর আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিল।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের পরিবারের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, পবিত্র কোরআন খতম, কবর জিয়ারত এবং এতিম-অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হারুণার রশিদ খান মুন্নুর জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল সততা, কর্মনিষ্ঠা, দেশপ্রেম এবং মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা। বাবার সেই জনসেবার দর্শন ও উন্নয়ন ভাবনাকে লালন করেই বর্তমান বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা দেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন।
২০০৮ সালে এনটিভির ক্যামেরায় বন্দী হওয়া সেই ছবিটির দিকে তাকালে আজও মনে হয়—সময় যেন থমকে আছে। বাবা আর মেয়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন, হাতে মনোনয়নপত্র, চোখে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। একজন আজ স্মৃতির আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র, অন্যজন সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে এগিয়ে চলেছেন। কিছু মানুষ চলে যান, কিন্তু তাদের কীর্তি থেমে থাকে না; হারুণার রশিদ খান মুন্নু তেমনই এক কালজয়ী নাম।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ