‘বিশাল সমাবেশে’ শামীম ওসমানের উসকানি
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ এনে নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বির বিচার দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তিনি ‘আল্লাহকে খুশি করার জন্য’ নিজেও আলেম-ওলামাদের সঙ্গে এই বিচারের দাবিতে মাঠে থাকার কথা জানিয়েছেন।
আজ শুক্রবার নারায়ণগঞ্জে রফিউর রাব্বির বিচারের দাবিতে আয়োজিত ‘বিশাল সমাবেশ’-এ ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য এই ঘোষণা দেন।
‘কোনো ছাড় হবে না, কোনো ছাড় হবে না’ উল্লেখ করে এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি ওলামাদের বলতে চাই, যে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম নিয়ে কটূক্তি করেছেন তাঁর বিচার চান কি চান না? (সভা থেকে রব ওঠে, চাই)। আমি জোরে শুনতে চাই, চান কি চান না?’ (সভা থেকে আরো জোরে আওয়াজ ওঠে, চাই)।
এরপর শামীম ওসমান বলেন, ‘আল্লাহ সকল নেক বান্দা যেহেতু বলেছে, বিচার অবশ্যই নারায়ণগঞ্জের মাটিতে হবে।’
গত বুধবার দুপুরে হেফাজতে ইসলামের নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক ফেরদাউসুর রহমান বাদী হয়ে রফিউর রাব্বির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রফিউর রাব্বি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘যদি বাংলার মানুষ জানত, সংবিধান বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দিয়ে শুরু হবে, দেশ হবে সাম্প্রদায়িকতার দেশ, তবে ৩০ লাখ শহীদ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করত না।’
এই মন্তব্যের কারণে মামলাটি করা হয়। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম অশোক কুমার দত্ত মামলাটি গ্রহণ করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাশাকে (ডিবি) আগামী ৭ মের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
সমাবেশে রফিউর রাব্বি ও তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশে শামীম ওসমান বলেন, ‘আপনারা মনে কইরেন না, আপনারা ফ্যাক্টর হইয়া গেছেন। না। আপনাদেরকে প্রতিবাদ করতে আসি নাই। আমরা আসছি আল্লাহকে খুশি করতে। আপনার বিরুদ্ধে কথা কইতে গেলে বা আপনার পিছে যে শক্তি আছে... আমি তো জানি নাম কইতে পারি না।
কইলে মনে করবো আমি অন্য উদ্দেশে কইছি। ওই শক্তিরে মোকাবিলা করার জন্য আমাদের চুটকিই (দুই আঙুলে তুড়ি দেন) যথেষ্ট। এর বেশি কিছু লাগে না কিন্তু। সমস্যা হচ্ছে আওয়ামী লীগ করি, হাত-পা বাঁধা এমপি।’
‘দলের পরিচয় যদি ছাইড়া দেই, আর দলের কারণে যে নেত্রীর বদনাম হয়- এটা ছাইড়া দেই, নারায়ণগঞ্জে মানুষের পায়ের তলে পইড়া কিন্তু মারা যাবেন ওইটুক ক্ষমতা আমাদের আছে ইনশাল্লাহ,’ রফিউর রাব্বিকে ইঙ্গিত করে বলেন শামীম ওসমান।
নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনকে উদ্দেশে শামীম ওসমান বলেন, ‘ভিডিও-অডিও রেকর্ডে রাব্বির মুখ থেকে যে কথা বেরিয়েছে, তা পরিষ্কারভাবে ধর্মের অনুভূতিতে আঘাতের ২৯৮-এ পড়ে। পরিষ্কারভাবে বাংলাদেশের সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়। এবং সেই হিসেবে এটা রাষ্ট্রদ্রোহে পড়ে, ১৩৬-এ পড়ে, ব্যবস্থা নেন।’
আলেম-ওলামাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘যদি সময়ের মধ্যে, কোর্ট যে সময় দিয়েছে, সেই সময়ের মধ্যে যদি কোনো গাফিলতি প্রমাণ হয়, আপনারা মাঠে পরে নামবেন, আল্লাহকে খুশি করার জন্য আমি মাঠে নামব ইনশাল্লাহ।’
জুমার নামাজের পর নগরীর ডিআইটি জামে মসজিদের সামনে ‘নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমান’ ব্যানারে এই সমাবেশ হয়।
ডিআইটি মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল আউয়ালের সভাপতিত্বে সমাবেশ আরো বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলন, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, রাফিউর রাব্বির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান প্রমুখ। এ ছাড়া মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতারা।

নাফিজ আশরাফ, নারায়ণগঞ্জ