স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন
স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রী ও স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন কুমিল্লার একটি আদালত।
আজ বুধবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নূর নাহার বেগম শিউলী এ রায় দেন।
২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর নিহত হন আক্তার হোসেন। তিনি সৌদি আরবে চাকরি করতেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হচ্ছেন, কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার দক্ষিণ খার গ্রামের বাসিন্দা সালমা আক্তার ও একই উপজেলার ধামতী গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল বাশার জানান, ২০০০ সালে সালমা আক্তারকে বিয়ে করেন আক্তার হোসেন। বিয়ের পর তিনি সৌদি আরবে চলে যান। তাঁদের একটি ছেলেসন্তানের জন্ম হয়। স্বামীর অনুপস্থিতিতে সালমা পাশের ধামতী গ্রামের নুরুল ইসলামের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় সালিসও হয়।
আবুল বাশার আরো জানান, পরে ২০১৩ সালে আক্তার হোসেন দেশে এলে সালমা স্বামীকে নিয়ে দেবীদ্বার সদরে ভাড়া বাসায় চলে আসেন। ওই বছরের ৪ নভেম্বর ভাড়া বাসায় প্রেমিক নুরুল ইসলামের সহযোগিতায় স্বামী আক্তার হোসেনকে হত্যা করেন সালমা। পরে স্বামী আক্তার হোসেন মস্তিষ্কের রক্ষক্ষরণে মারা যান বলে দাবি করেন সালমা। কিন্তু ময়নাতদন্তে মাথায় আঘাতের বিষয়টি উঠে আসে।
আক্তার হোসেনের ভাই হানিফ সরকার বাদী হয়ে ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি সালমা ও নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দেবীদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দুজনকে যাবজ্জীবন সাজা দেন।

মো. জালাল উদ্দিন, কুমিল্লা