‘কিসের জাতীয় সনদ’
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘খুব বিনয়ের সঙ্গে বলছি- কিসের জাতীয় সনদ? যেখানে আমার সংবিধান রয়েছে। আজকে মুক্তিযুদ্ধে আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণার পত্রকে উচ্চ আদালতে সিদ্ধান্ত অনুসারে সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, আমার আর কী সনদ দরকার? আমার তো ৩০ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে যে সনদ, সে সনদ যদি আমার জন্য যথেষ্ট না হয়, তাহলে কোন সনদ আমার জন্য যথেষ্ট হবে? কোনো সনদ না।’
আজ রোববার জাতীয় জাদুঘরে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম- মুক্তিযুদ্ধ ’৭১ আয়োজিত ‘সন্ত্রাস, সহিংসতা ও জাতীয় নিরাপত্তা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মিজানুর রহমান এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরাও জানি যে গোলাবারুদ দেওয়া হয় মিউজিয়ামে প্রদর্শনের জন্য নয়, তবে এর মানে কিন্তু এই নয় যে যত্রতত্র গুলি ব্যবহার করা উচিত।’
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘শার্লি হেবদোর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংলাপের কথা কেউ বলেনি। সঙ্গে সঙ্গে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হলো পৃথিবীর বুক থেকে। কয়েক বছর আগে ইস্ট লন্ডনে দাঙ্গা আর লুটপাটে জড়িত সন্ত্রাসীদের রাতের অন্ধকারে বুটের আঘাতে দরজা গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আর আমাদের এখানে এত সন্ত্রাস এত জঙ্গিবাদ এত দগ্ধ মানুষের আহাজারি, এরপরেও তাদের সাথে সংলাপে বসতে হবে?’ অপরাধীদের এসব ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
‘জর্জ ডব্লিউ বুশের কথা সত্য’
মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা যখন কার্যতভাবে চেষ্টা করছিলাম যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড যেন শূন্যের কোটায় নেমে আসে, কেননা এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয় প্রধানত রাষ্ট্রের কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক। সে উদ্যোগে এবং সে লক্ষ্যে আমরা অনেকটা সফলতা অর্জন করেছিলাম। সে মুহূর্তে কেন এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হলো, যখন রাষ্ট্রীয় কোনো সংস্থা নয়, রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, রাজনৈতিক দলের মুখোশধারী কোনো প্রতিষ্ঠান বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠল?’ তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের বেছে নিতে হবে কোন পথে এগোবে বাংলাদেশ? ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পথে নাকি ৭৫-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতির পথে। এটা আদর্শের প্রশ্ন। এখানে রাখঢাকের কিছু নেই।... এখানে মনে হয় জর্জ ডব্লিউ বুশের কথাটি সত্য- আপনি হয় বাংলাদেশের পক্ষে অথবা আপনি বাংলাদেশের বিপক্ষে।’
‘বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়া চলছে’
মিজানুর রহমান বলেন, ‘খবরের কাগজে দেখেছি নাগরিক উদ্যোগ ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করবে। আর আমরা বলি যদি আজকের এই সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংসতা নির্মূল করতে না পারা যায়, জঙ্গিবাদের নিধন না হয় তাহলেই মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘রাজনীতি খারাপ, রাজনীতিবিদ মানেই খারাপ। এ রকম একটি ধারণা সৃষ্টি করা হয়েছে। বারবার বলা হচ্ছে, দেখুন আমরা একটি কমিটি করেছি, এগুলোতে রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত কেউ নেই। তার মানে কি কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেই সে অগ্রহণযোগ্য হয়ে যাচ্ছে? রাজনীতির প্রতি বিরূপ ধারণার এ অপপ্রয়াস কেন? কেননা আপনি কখনো রাজনীতি করেননি, শুধু সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন রাষ্ট্রের কাছ থেকে এ জন্যই? রাজনীতি করতে হলে জনগণের জন্য সাধারণ মানুষের জন্য কোনো কিছু করতে হয়। যেটা আপনার করার কোনো অবকাশ বা যার ইচ্ছে আপনার কখনো হয়নি।’
মিজানুর রহমান আরো বলেন, ‘রাজনীতি জিনিসটিকে খারাপভাবে আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এটি একটি ষড়যন্ত্র।’
‘আইন ব্যবস্থা ধনীদের পছন্দ করে’
মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের আইন ব্যবস্থা ধনীদের পছন্দ করে, প্রভাবশালীদের পছন্দ করে। আমি জানি না কোন আদালতে এই হরতাল রয়েছে, অবরোধ রয়েছে এবং আমার যদি হাজিরা থাকে আমার উকিল যদি গিয়ে বলে আজকে হরতাল ছিল, অবরোধ ছিল তাই ওরা আসতে পারেনি, মহামান্য আদালত আপনি গ্রহণ করুন। আমার জানা মতে কোনো আদালত তা গ্রহণ করেন না। সাধারণ দরিদ্র মানুষকে হরতাল হোক, অবরোধ হোক সব কিছু উপেক্ষা করে তাকে আদালতে হাজিরা দিতে হয়। কিন্তু আমি যদি রাজনীতি করি আমি কিন্তু আদালতে দিনের পর দিন পার পেয়ে যেতে পারি। কী সুন্দর আইন ব্যবস্থা।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কে এম সফিউল্লাহ, কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, ম হামিদ প্রমুখ।

অনলাইন ডেস্ক