জব্দ করা গাড়ি ব্যবহার করবে পুলিশ!
লাইসেন্সবিহীন, চোরাই বা ইঞ্জিনচালিত অবৈধ যানবাহন জব্দ করার পর বছরের পর বছর পড়ে থাকে ভাগাড় বা ডাম্পিং স্টেশনে। এসব যানই ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়।
পুলিশের কাছে জব্দ মোটরযানের ব্যবহার বিষয়ে বৈঠকে পুলিশ জানায়, রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি থানায় পুলিশের যানবাহনের চাহিদা রয়েছে। অথচ জব্দ করা অনেক মোটরযান বছরের পর বছর ডাম্পিং স্টেশনে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যায়। আইন না থাকায় পুলিশ এগুলো ব্যবহার করতে পারছে না। এসব যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ মিললে অপরাধ দমন পুলিশের পক্ষে অনেকটা সহজ হবে বলে মতামত দেওয়া হয়।
পুলিশের এ দাবি পূরণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দ করা মোটরযান নষ্ট না করে রাষ্ট্রীয় কাজে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা ঠিক করতে আইন মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেওয়া হবে। কীভাবে এ ধরনের যানবাহন ব্যবহার করা যায়, তার আইনি ব্যাখ্যা চেয়ে এ চিঠি দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি টিপু মুনশী বলেন, ‘আমরা একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিতে চাই। সেটা এক বছর বা দুই বছর যা-ই হোক। কোনো যানবাহন জব্দ করার পর নির্দিষ্ট সময় পার হলে তার মালিকানা যাবে রাষ্ট্রের হাতে। এসব যানবাহন নষ্ট না করে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার করা হবে।’
রাজধানীর যানজট নিরসনে করণীয় নির্ধারণ করতে উপকমিটি গঠন করে দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। কমিটির সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে আহ্বায়ক করে গঠিত তিন সদস্যের এ কমিটিতে অন্যরা হলেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম ও বিএনএফের আবুল কালাম আজাদ। কমিটিকে আগামী বৈঠকে যানজট নিরসনে করণীয় ঠিক করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
টিপু মুনশী জানান, দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে অর্ধেকের বেশি সময় রাজধানীর যানজট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাজধানীর যানজট উদ্বেগজনক ইস্যু। বিদেশিরা আসতে পারে না, ব্যবসায়ীরা চলতে পারে না, যে করেই হোক এর একটি সমাধান দরকার। পুলিশের পক্ষ থেকে যানজট নিরসনে কাজ হচ্ছে। তার পরও কোনো সুফল আসছে না। তাই এবার সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, বৈঠকে এসব ইস্যু ছাড়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ইস্যু নিয়ে কমিটিতে আলোচনা হয়। বৈঠকে বলা হয়, আগামী ২৪ নভেম্বরের পর প্রবাসী বাঙালিরা আর অ্যানালগ পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারবেন না। কিন্তু যে গতিতে এমআরপি তৈরি করা হচ্ছে, তাতে ২৪ নভেম্বরের মধ্যে সব পাসপোর্ট এমআরপি করা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে কমিটি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কমিটিকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ২৪ নভেম্বরের মধ্যেই সব পাসপোর্ট এমআরপি করা সম্ভব।
উল্লেখ্য, এমআরপির টার্গেট ৩৫ লাখ। এর মধ্যে ইস্যু করা হয়েছে ১৯ লাখ চার হাজার ৩১৬টি। এমআরপি প্রক্রিয়াধীন ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৬৮৪টি। আগামী তিন মাসের মধ্যেই এসব পাসপোর্ট এমআরপি করতে হবে।
কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, ওমর ফারুক চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ফখরুল ইমাম ও কামরুন নাহার চৌধুরী অংশ নেন। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা