জয়পুরহাটে ইউপি চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়াইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে ওই ইউপির ১২ জন সদস্যসহ এলাকাবাসী। আজ সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ চত্বরে কর্মসূচি পালন শেষে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে বড়াইল ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ আলীর নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন একই ইউপির মোজাফ্ফর হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, কেরামত আলী, রেজিয়া বিবি ও মোসলেমা বেগমসহ ১২ জন ইউপি সদস্য।
ইউপি সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, পরিষদের প্রায় দুই বছর সময় অতিক্রান্ত হলেও আজ পর্যন্ত চেয়ারম্যান গ্রাম আদালত চালু করেননি। কেউ অভিযোগ দিলে চেয়ারম্যান তা খুলেও দেখেন না।
অন্য সদস্য কেরামত আলী অভিযোগ করেন, পরিষদের কোনো কাজেই চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যদের পাত্তা দেন না। গত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে পরিষদের আসবাবপত্র ক্রয় দেখিয়ে চেয়ারম্যান দুটি চেকের মাধ্যমে ৯৮ হাজার ৩৫৫ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
ইউপি সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন অভিযোগ করেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পরিষদের কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই এডিপি ফান্ডের এক লাখ টাকা দিয়ে চেয়ারম্যান তাঁর ব্যক্তিগত চাতালের ড্রেন নির্মাণ করেছেন। তাঁর এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিষদের ১২ জন ইউপি সদস্য রেজুলেশনের মাধ্যমে তাঁর প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপনও করেছেন। অনাস্থা প্রস্তাব বাস্তবায়নে গত ১১ অক্টোবর জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদনও করা হয়েছে বলে ইউপি সদস্যরা জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বড়াইল ইউনিয়নের উত্তর বস্তা গ্রামের বৃদ্ধ দিনমজুর আবদুল আজিজ অভিযোগ করেন, বৃদ্ধ ভাতা দেওয়ার কথা বলে চেয়ারম্যান তিন হাজার টাকা উৎকোচ নিলেও তাঁর কার্ড করে দেননি।
বড়াইল ইউনিয়নের দেউলিয়া গ্রামের মনোয়ারা বিবি জানান, দুঃস্থমাতার কার্ড দিতে চেয়ে চেয়ারম্যান তাঁর কাছ থেকে দেড় হাজার টাকা নিলেও আজ পর্যন্ত তাঁকে কার্ড দেওয়া হয়নি।
একইভাবে ওই গ্রামের কমেলা বিবি অভিযোগ করেন, তাঁর বাড়ির পারিবারিক কলহ মেটানোর জন্য চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেও তিনি কোনো সমাধান পাননি। শেষে বাধ্য হয়ে তাঁকে থানায় অভিযোগ করতে হয়েছে। এ জন্য তাঁর অনেক টাকা খরচ হয়েছে।
মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে ইউপি সদস্যরা স্মারকলিপি দেন।
এর আগে একই দাবিতে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হওয়া একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।
তবে ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বড়াইল ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ আলী মণ্ডল। তিনি বলেন, এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়েই তিনি তাঁর পরিষদের কাজকর্ম চালাচ্ছেন। একটি মহল রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করতে মিথ্যা ও মনগড়া অভিযোগ এনে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

শাহজাহান সিরাজ মিঠু, জয়পুরহাট