বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপনে চুক্তি সই
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ) স্থাপনে ফ্রান্সের মহাকাশ সংস্থা থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস-এর সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে। আজ বুধবার চুক্তিটি সই করা হয়। স্যাটেলাইটটি মহাকাশে স্থাপন করতে ব্যয় হবে তিন হাজার কোটি টাকা। আর চুক্তি অনুযায়ী ২০১৭ সালেই মহাকাশে স্থাপন করা হবে এ স্যাটেলাইট। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ হবে ৫৬তম স্যাটেলাইট ব্যবহারকারী দেশ।
urgentPhoto
স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ব্যয় উঠে বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর প্রকল্প সম্পন্ন হলে নির্বিঘ্ন সম্প্রচারের পাশাপাশি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর স্যাটেলাইট ভাড়া বাবদ বিপুল অঙ্কের টাকাও সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ জানান, দেশের টেলিভিশন চ্যানেলের পাশাপাশি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করে বছরে ব্যয় করছে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার। তিনি জানান, সম্প্রচারের পাশাপাশি নির্বিঘ্ন যোগাযোগের ব্যবস্থা করতে গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় বসছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চ্যানেলের গ্রাউন্ড স্টেশন। এই স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার ক্যাপাসিটির ২০টি থাকবে বাংলাদেশে। সার্ক দেশের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনসহ ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ থাকবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আওতায়।
এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এই খাত পরিণত হবে দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের খাত হিসেবে।
তারানা হালিম বলেন, ‘আমরা সম্প্রচারের ভাড়া বাবদ এখন প্রায় ১০০ কোটি টাকার বেশি খরচ করছি। এরপর আমাদের এ টাকাটা সম্পূর্ণ সাশ্রয় হবে। ট্রান্সফরমার ভাড়া দিয়ে আমরা ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা আয় করেত পারব। এর ফলে মাত্র ছয় থেকে সাত বছরের মধ্যে আমরা যে ব্যয় করছি তা তুলে আনতে পারব এবং আমরা লভ্যাংশের দিকে অগ্রসর হব।’

নিজস্ব প্রতিবেদক