জাতীয় সংসদের নিরাপত্তা জোরদার
ফ্রান্সে হামলা ও দেশব্যাপী নাশকতা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনায় জাতীয় সংসদ ভবনেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, নিজস্ব ও নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনাবাহিনী ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) নিয়োজিত রয়েছে সংসদ এলাকায়। এমনকি সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যদের প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে প্রবেশ করতে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক, দর্শনার্থীসহ সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরদের প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
বিকেল থেকে সংসদ ভবনের প্রবেশপথ ও ভবনের ভেতরে ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য সময়ের থেকে আজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বেশি তৎপর। কারো শরীরে আইডি কার্ড ঝোলানো না থাকলে তাঁর পরিচয় জিজ্ঞেস এবং আইডি কার্ড ঝুলিয়ে চলাফেরা করার পরামর্শ দিচ্ছেন। এ ছাড়া দুপুরের পর পরই ডগ স্কোয়াড দিয়ে পুরো সংসদ এলাকা তল্লাশি করে র্যাব।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্যারিসে বোমা হামলার পর থেকেই নিরাপত্তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অচিরেই সংসদ ভবনের ফটকে পরিচয়পত্র শনাক্তকরণ (পাঞ্চিং মেশিন) যন্ত্র বসানো হবে। আর পরিচয়পত্র ঝোলানোর বিষয়ে সংসদ সদস্যদের মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ ও হুইপরা এ নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আজ সোমবারও অনেক সংসদ সদস্য কার্ড ঝুলাননি।
এ ছাড়া আজ সোমবার অধিবেশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে সংসদ অধিবেশন কভারেজে আসা সাংবাদিকদের অধিবেশন পাসের পাশাপাশি তথ্য অধিদপ্তর থেকে দেওয়া অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডও দেখাতে বলা হচ্ছে।
নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, সংসদের নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক বহিরাগত মুজিব কোট পরে সংসদে ঢুকে যাচ্ছেন। সংসদ সদস্য ভেবে নিরাপত্তা বাহিনী ভয়ে তাঁদের কিছু বলে না। তাই সবাইকে কার্ড ঝুলিয়ে প্রবেশের অনুরোধ করা হয়েছে।
গত ৪৭ দিনে দেশে ১৩টি হামলায় দুই বিদেশি, দুজন পুলিশ, একজন প্রকাশকসহ নয়জন খুন হয়েছেন। এসব ঘটনার বেশির ভাগেরই রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি। এর মধ্যেই গত শুক্রবার ফ্রান্সের প্যারিসে জঙ্গি হামলায় অন্তত ১২৯ জন নিহত হওয়ার পর বিভিন্ন রাষ্ট্র নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবছে।
সংসদ সূত্র আরো জানায়, গত শনিবার সংসদ ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হকসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকারের কক্ষে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমানে সংসদ ভবনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৪০ জন সদস্য এবং দেড়শ আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি র্যাবও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক