ভৈরবে আবার সংঘর্ষ, আহত-২০, আটক ২
ভৈরবের ভবানীপুর গ্রামে বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে আবারো সংঘর্ষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। এ সময় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে ২০ থেকে ২৫টি বাড়ি। খবর পেয়ে ভৈরব থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ২৭ রাউন্ড রাবার বুলেট এবং আট রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই সময় সংঘর্ষে জড়িত থাকার সন্দেহে দুজনকে আটক করে পুলিশ।
আহতদের মধ্যে মোজাম্মেল, আলামিন, মেরাজ মিয়া, জামাল উদ্দিন, জজমিয়া, জসিম উদ্দিন ও আক্কাছ আলীকে ভৈরবের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার, এএসপি (বাজিতপুর সার্কেল) মৃত্যুঞ্জয়ী দে সজল ও ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদরুল আলম তালুকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে বলে এনটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন ওসি বদরুল আলম তালুকদার।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সংঘর্ষে বিবদমান জয়নাল মেম্বার গ্রুপের আহত রায়হান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন— এমন গুজব আজ দুপুরের দিকে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এমন গুজবের পরিপ্রেক্ষিতে সুলাইমান গ্রুপের বাড়িতে লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে খবর পেয়ে সুলাইমান পক্ষের লোকজন প্রতিহত করতে এগিয়ে এলে আজকের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে বিকেল ৩টার দিকে উভয় গ্রুপের কয়েকশ লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অন্যের ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগে, গতকাল সোমবার দুপুরে ভৈরবের শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৩০ ব্যক্তি আহতের ঘটনা ঘটে। এই সময় কমপক্ষে ১০ থেকে ১২টি বসতঘরসহ দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৫৪ রাউন্ড শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব