জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করলে জেল-জরিমানা
জীববৈচিত্র্য ধ্বংসে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন-২০১৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম বলেন, খসড়ায় জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করলে এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো কাজ করলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইনটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়।
আইনের খসড়া বিষয়ে সচিব বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি এবং এটি সংরক্ষণের জন্য সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি আইন করা জরুরি ছিল। এই খসড়া আজ চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হলো।
শফিউল আলম আরো বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে তৃণমূল পর্যায়ে কার কী দায়িত্ব, তা এই খসড়া আইনে বলা হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করে কেউ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয় উপস্থাপিত ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার তহবিল আইন-২০১৫’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় উপস্থাপিত ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট আইন-২০১৫’ এবং শিল্প মন্ত্রণালয় উপস্থাপিত ‘জাতীয় গুণগত মান (পণ্য ও সেবা) নীতি-২০১৫’-এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো বলেন, আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে দুজন মন্ত্রীর বিদেশ সফরের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করবে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক