সাংহাই-হংকং’কে অনুসরণ করছে বাংলাদেশ
বহুল প্রত্যাশিত কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের ত্রয়োদশতম সভায় এই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়।
বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প অনুমোদনের মধ্যদিয়ে দেশের আধুনিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছে। সাংহাই যা পেরেছে এবং হংকং যা পারে আমরাও সেটা অনুসরণ করার চেষ্টা করছি।
মন্ত্রী আরো বলেন, ২০১৪ সালে চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির সরকারকে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের অনুরোধ করেন। আর তারই আন্তরিক প্রচেষ্টায় চীন সরকার টানেল নির্মাণে সম্মত হয়। ২০২০ সালের আগে টানেলটি নির্মাণ শেষ হলে চট্টগ্রাম একটি অন্যতম আধুনিক শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অগ্রগতির এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালের আগেই আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।
কর্ণফুলী টানেল বাস্তবায়নে মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে আট হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা চায়না এক্সিম ব্যাংক প্রকল্প সাহায্য হিসেবে দেবে চার হাজার ৭৯৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
আজকের বৈঠকে উপস্থাপিত ১২টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন করা হয়।
অনুমোদিত ১২টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৭৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে জিওবি ১১ হাজার ৭২৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল চার কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য পাঁচ হাজার ২৪৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
মুস্তফা কামাল আরো জানান, একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে ৫২২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এস্টাবলিশমেন্ট অব ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি, ঢাকা, ৭৪কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ইন্দ্রপুল হতে চক্রশালা পর্যন্ত বাঁক সরলীকরণ প্রকল্প, ৩৫কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘কনস্ট্রাকশন অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বিল্ডিং অ্যান্ড সেইলরস ব্যারাক ফর থ্রি কোস্ট গার্ড স্টেশন, ৩৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলনা পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প, তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজগুলোর উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, এক হাজার ৩৩১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও চট্টগ্রামে একটি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প, ১২২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো সুবিধাদি উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, ১২২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প ১ম পর্যায় (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্প , ৪৩৬ কোটি টাকা ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের আওতায় ঢাকা বিভাগীয় অঞ্চলের প্রিপেমেন্ট ইমিটার স্থাপন (পর্যায় ১) প্রকল্প, ৪০কোটি টাকা ব্যয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্প এবং ২৬৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও ভ্রুণ স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন (৩য় পর্যায়) প্রকল্প।
বৈঠকে একনেক সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা