তালাক দেওয়ার পর দেনমোহরের টাকাসহ ‘অপহরণ’
সালিস বৈঠকে এক গৃহবধূকে সমঝোতার মাধ্যমে তালাক দেওয়া হয়। এ সময় তাঁকে বিয়ের দেনমোহর বাবদ দেওয়া হয় এক লাখ ২০ হাজার টাকা। সেই টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পথেই অপহৃত হন ওই গৃহবধূ। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। কিছু টাকাসহ সন্দেহভাজন একজনকে আটকও করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায়। আজ শনিবার এ ঘটনায় গৃহবধূ শামীমা পারভীনের (২১) মা আলেয়া বিবি বাদী হয়ে পাঁচবিবি থানায় অপহরণ ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এঁরা হলেন মাহবুব, জয়নাল, কিনা ও সবুজ। এর মধ্যে গতকাল রাতেই উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা থেকে মাহবুবকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন লকমা গ্রামে।
পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাহবুবের কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁকে আজ আদালতে হাজির করা হয়। তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তাঁদের বাড়িও পাঁচবিবি উপজেলায়।
মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পাঁচবিবি উপজেলার কড়িয়া গ্রামের গৃহবধূ শামীমা পারভীন দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর স্বামী (মামলায় স্বামীর নাম উল্লেখ করতে চাননি বাদী) তাঁকে নির্যাতন করছিলেন বলে অভিযোগ করেছিলেন। স্বামীর নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে তালাক চান শামীমা।
এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার পাঁচবিবির পাশের হাকিমপুর পৌরসভায় উভয় পক্ষ সমঝোতায় বসেন। সেখানে গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে তালাকের সিদ্ধান্ত উভয়ে মেনে নেন এবং স্বামীর পক্ষ থেকে দেনমোহরের এক লাখ ২০ হাজার টাকা শামীমাকে দেওয়া হয়। ওই বৈঠকে শামীমা ছাড়াও তাঁর মা আলেয়া বিবি ও তাঁর এক ভাই উপস্থিত ছিলেন।
এই টাকা নিয়ে সন্ধ্যায় তিনজন নিজেদের বাড়ির দিনাজপুর দিকে রওনা দেন। পথে পাঁচবিবি-হিলি সড়কের নাকুরগাছি এলাকায় মাহবুব, জয়নাল, কিনা ও সবুজ নামে চার যুবক তাঁদের পথ রোধ করে এবং শামীমাকে তুলে নিয়ে যায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
তখন শামীমার মা ও ভাই থানায় এসে বিষয়টি জানান। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। এরই একপর্যায়ে শামীমা কৌশলে পালিয়ে শিমুলতলী এলাকায় তাঁর খালু আবু তাহেরের বাড়িতে চলে আসেন। পরে সেখান থেকে ভোরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

শাহজাহান সিরাজ মিঠু, জয়পুরহাট