নীলফামারীতে পৃথক ২ হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন
নীলফামারীতে এক সন্তানের জননী এক গৃহবধূ ও এক কৃষককে হত্যার দায়ে ছয় ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ ও অর্থদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদুল কবীর এ রায় ঘোষণা করেন।
স্ত্রী হত্যায় যাবজ্জীবন সাজার আদেশ পাওয়া ব্যক্তির নাম বিপুল চন্দ্র রায় (৩০)।তিনি জেলার ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের সাতজান গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল যৌতুকের দাবিতে জেলার ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের সাতজান গ্রামের গৃহবধূ এক সন্তানের জননী সন্ধ্যা রাণী রায়কে পিটিয়ে হত্যা করেন তাঁর স্বামী বিপুল চন্দ্র রায়। হত্যার পর বিপুল স্ত্রীর শরীরে বিদ্যুতের তার জড়িয়ে রেখে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে থানায় একটি অপমৃত্যুর অভিযোগ দায়ের করেন। এ সময় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করায়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে সন্ধ্যা রাণী রায়কে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ।
এরপর ডিমলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম মহিউদ্দীন বাদী হয়ে ওই বছরের ৩ জুন সন্ধ্যা রাণী রায়ের স্বামী বিপুলকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার দীর্ঘ শুনানি এবং বিপুলের স্বীকারোক্তিতে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হলে আদালতের বিচারক ওই আদেশ দেন।
২০০৭ সালের আগস্ট মাসে ওই দম্পতির বিয়ে হয়। নিহত সন্ধ্যা রাণী জেলার জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের পশ্চিম গড় ধর্মপাল মাঝাপাড়ার অমূল্য চন্দ্র রায়ের মেয়ে।
অপরদিকে, ২০০৯ সালের ২৩ জুন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক সফিয়ার রহমানকে পিটিয়ে আহত করেন তাঁর প্রতিপক্ষ। এ সময় জেলার সৈয়দপুর উপজেলার খাতা মধুপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে তাঁকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আবদুল আজিজ বাদী হয়ে পরের দিন ২৪ জুন সৈয়দপুর থানায় ১৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। ওই ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদুল কবীর আজ পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ, প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১৪ জন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া পাঁচ আসামি হলেন সৈয়দপুর উপজেলার খাতা মধুপুর গ্রামের মকিম উদ্দীনের ছেলে বাবুল (৩৮), তাঁর বড় ভাই মোসলেম উদ্দীন (৪২), চাচাত ভাই দুলাল হোসেন (৩৭), আবদুল মজিদ (৪০) ও ভাতিজা সাইফুল ইসলাম (২৫)।

মোস্তফা আবিদ, নীলফামারী