খায়-দায় জলে, ডিম দেয় ঘরে
উঠোন ভর্তি সাদা-কালো রাজহাঁস। কোনোটার গায়ে আবার লাল, সবুজ রং মাখানো। কোনো ভয়-ডরের তোয়াক্কা না করে হাঁসগুলোর পেছন পেছন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে বাড়ির শিশুরা। আর বাড়ি থেকে বাইরে বেরুলে হাওড়ে বা পুকুরেও দেখা মিলবে দলবেঁধে সাঁতরে বেড়ানো রাজহাঁসদের।
urgentPhoto
এ দৃশ্য কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার। এ উপজেলার আগানগর, শ্রীনগর, শিমুলকান্দি আর সাদেকপুর ইউনিয়নের গ্রামগুলোর প্রতিটি ঘরে পালন করা হয় রাজহাঁস। নদী-নালা, হাওড়-বাওর আর খাল-বিলে ঘুরে ঘুরে খাদ্য খায় হাঁসগুলো। কিন্তু ডিম পাড়তে ঠিকই বাড়ির পথ ধরে। আর এভাবেই সচ্ছলতা এসেছে এখানকার প্রতিটি ঘরে।
অল্প খরচে লাভজনক এ কাজে নারী-পুরুষ সবাই আগ্রহী হয়ে উঠেছে, ফলে এ এলাকায় রাজহাঁস পালনের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। আর সেই রাজহাঁস পালনকে উৎসাহিত করতে পরামর্শসহ সব রকমের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
ভৈরবের প্রতিটি বাড়িতে পালন করা হচ্ছে রাজহাঁস। সকালে আধার (হাঁস-মুরগির খাবার) খেয়ে হাঁসগুলো বের হয়, আশপাশের নদী, খাল-বিল, পুকুর আর ডোবার জলে ভেসে বেড়ায় এই রাজহাঁসের দল। সারাদিন জলে ঘুরে জল থেকেই খাদ্য খুঁজে খায় তারা। আর সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে সারি ধরে ঠিক পথ চিনে যার যার ঘরে ফিরে যায়। তবে ডিম দিতে হলে যেকোনো সময় ফিরে যায় বাড়িতে। নির্ধারিত স্থানে ডিম দিয়ে আবার জলে ফিরে আসে দলবলের কাছে।
অল্প খরচে লাভজনক এ হাঁস পালনের মুনাফায় সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে বলে জানায় উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের ছাগাইয়া গ্রামের জসিম উদ্দিন, নূরুন্নাহার এবং শিমুলকান্দির পাঁচঘরহাটি গ্রামের শিউলী, রূপা আর কুলসুমের মতো আরো অনেকেই।
শিউলী-কুলসুমের মতো আরো বেশ কজন রাজহাঁস পালনকারী জানান, রাজহাঁস পালনে খুব একটা খরচ করতে হয় না তাঁদের। বাসি-পান্তা ভাত, চালের খুদ-কুড়া হাঁসের খাবার। সকালে সেগুলো খেয়ে পানিতে চলে যায়, ফিরে সন্ধ্যায়। আবারও খেয়ে যার যার খোঁয়াড়ে ঢুকে পড়ে।
হাঁস পালনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি রাজহাঁস বছরে দুই থেকে তিনবার ডিম দেয়। হাঁসের বয়সভেদে ডিম দেয় আট থেকে ১২টি।
প্রতিটি রাজহাঁসের বাচ্চা বিক্রি হয় দুই থেকে আড়াইশ টাকায়। আর একটি বড় হাঁসের স্থানীয় মূল্য ৮০০ থেকে একহাজার ২০০ টাকা।
ভৈরবের হাওড় অঞ্চলের গ্রামগুলোতে রাজহাঁস পালনের বিস্তার ঘটার কথা স্বীকার করে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রামবাসীর এ লাভজনক কাজে তাঁর দপ্তর সব রকম টেকনিকেল সাপোর্টসহ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। মুরগি বা পাতিহাঁসের চেয়ে রাজহাঁসের ডিম ও মাংস অনেক পুষ্টিকর।
এ ছাড়া রাজহাঁসের বাজারদরও খুব ভালো বলে জানান এ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব