মংলার গ্রামে হঠাৎ বাঘের আতঙ্ক
বাগেরহাটের মংলা এলাকায় সুন্দরবনের পাশের বরইতলা গ্রামে হঠাৎ করে বাঘের উৎপাত বেড়ে গেছে। গত শুক্রবার রাতে গ্রামের পাশের বরইতলা খাল পেরিয়ে একটি বাঘ লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। বাঘটি সোহরাব নামের এক মাছ ব্যবসায়ীর বাড়িতে ঢুকে গোয়ালে থাকা গরুর ওপর আক্রমণ চালায়। এরপর গরুর ডাকে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে বাঘটিকে তাড়িয়ে দেয়।
পরে স্থানীয়রা বন বিভাগকে খবর দিলে বন বিভাগের সদস্য, টাইগার টিম ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঘটিকে বনের গভীরে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার গাজী মতিয়ার রহমান বলেন, বাঘটিকে বনে ফেরত পাঠাতে বন বিভাগ সাত-আটটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সঙ্গে স্থানীয় লোকজন মশাল জ্বালিয়ে ও টিনের খালি বাক্স পিটিয়ে বিকট শব্দের সৃষ্টির করে।
সরেজমিন দেখা গেছে, খালের পাড়ের বন থেকে সোহরাবের বাড়ির দূরত্ব মাত্র ২০০ গজ। বাড়ির আশপাশে ও খালের চরে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে সেখানে শনিবার সকালে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। বাঘটি বনে ফিরে গেলেও এলাকাজুড়ে বাঘ আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুনরায় বাঘ লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে সেই আশঙ্কায় বন বিভাগ, টাইগার টিম ও পুলিশ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগেও মংলার জয়মনি, কাটাখালী ও বরইতলা এলাকায় প্রায় রাতেই বাঘ ঢুকে মানুষ, গরু, ছাগল ও কুকুরের ওপর হামলা করত। সে সময় অনেক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। শেষ কয়েক বছরে ওই এলাকায় বাঘের উৎপাত কমে গেলেও পরশু রাতের পর আবার আতঙ্ক ফিরে এসেছে ওই গ্রামগুলোতে।
বাঘ লোকালয়ে চলে আসার বিষয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা গাজী মতিয়ার রহমান জানান, সুন্দরবনের মধ্যে বাঘের বিচরণ এলাকায় খাবারের অভাব দেখা দিলে সাধারণত বাঘ লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এ ছাড়া ওই এলাকায় অন্য আরেকটি বাঘ ঢুকে পড়লে মারামারি করে হেরে যাওয়ার পর বাঘটি লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে।

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা