ডিশলাইনে আগে দেশি চ্যানেল দেখাতে হবে
ডিশলাইনে বাংলাদেশি চ্যানেলগুলো আগে দেখাতে হবে, পরে বিদেশি চ্যানেল দেখাতে হবে—এই নির্দেশ না মানলে লাইসেন্স বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে সরকার। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠার ক্রমতালিকা অনুযায়ী দেশের টিভিগুলো টিউন করতে কেবল অপারেটরদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হবে।
আজ দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারি টিভি মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, অ্যাটকোর সভাপতি এবং এনটিভির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোসাদ্দেক আলী বক্তব্য রাখেন। অ্যাটকোর পক্ষে আরো বক্তব্য রাখেন অঞ্জন চৌধুরী, এ কে আজাদ চৌধুরী, মোজাম্মেল হক বাবু প্রমুখ।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে দেশের টিভি চ্যানেলগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশি টিভি চ্যানেল আগে দেখাতে প্রতিষ্ঠার ক্রম অনুযায়ী অপারেটরদের তালিকা দেওয়া হবে। তালিকা অনুযায়ী টিভি টিউন করতে হবে। এ নির্দেশ না মানলে লাইসেন্স বাতিলসহ শাস্তি দেওয়া হবে।’
বিদেশি চ্যানেলে বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন যাতে না দেখানো হয়, সে জন্য অ্যাটকো দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো যাতে ভারতে দেখানো হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নিতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
অ্যাটকোর সব দাবি বিবেচনায় নিয়ে এরই মধ্যে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের শিল্প বিকাশে বর্তমান সরকার আন্তরিক।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে টিভি চ্যানেলের তালিকা করে টিভি অপারেটরদের কাছে পাঠানো হবে। অপারেটররা তালিকা অনুযায়ী টিভি দেখাবেন। না হলে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অ্যাটকোর সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোসাদ্দেক আলী বলেন, ‘আমরা দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নে একে অপরের পরিপূরক। অ্যাটকোর দাবিগুলো বিবেচনায় নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ। তবে একই সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত কেবল অপারেটরদের জানাতে অনুরোধ করছি।’
বৈঠকে বেসরকারি টেলিভিশন মালিকরা জানান, ডিশলাইনে প্রথমেই বাংলাদেশি চ্যানেল ও পরে বিদেশি চ্যানেল দেখানোর সরকারি সিদ্ধান্ত বেশ কয়েক বছরের পুরোনো। কিন্তু কেবল অপারেটররা এ সিদ্ধান্ত মানছে না। পাশাপাশি ভারতে বাংলাদেশি চ্যানেল দেখানোর ক্ষেত্রে উচ্চহারে ফিসহ নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে খুব সহজেই ভারতীয় চ্যানেল দেখানো হয়। এ ধরনের বিদেশি চ্যানেলের ল্যান্ডিং ফি বাড়ানোর সরকারি প্রস্তাব দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। এসব বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচারের নামে অর্থ পাচার বন্ধের দাবি জানান অ্যাটকোর প্রতিনিধিরা।
আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোসাদ্দেক আলী আরো বলেন, ‘দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। এই টিভিগুলো যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে ও ভালোভাবে দেশের মানুষ দেখতে পায়, সে জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি। আমাদের সবার লক্ষ্য একটাই, দেশ সমৃদ্ধশালী হোক। সবার সম্মিলিত প্রয়াসে একটি সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়া সম্ভব বলে মনে করি।’
বৈঠকে এ কে আজাদ বলেন, আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো যাতে ভারতে দেখানো হয়, সে জন্য সরকারকে বলে আসছি। সরকার শোনে, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তা বাস্তবায়ন হয় না। আমরা চাই, এবার যেন আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, এবার যেন বাস্তবায়ন হয়।’
মোজাম্মেল হক বাবু বলেন, ‘ভারতীয় টিভি চ্যানেলে বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে। এতে দেশের রাজস্ব ভারতে চলে যাচ্ছে।’
বৈঠকের শেষ দিকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আপনাদের দাবিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। আর আপনাদের কাছেও আমাদের চাওয়া আছে, স্পর্শকাতর বিষয়গুলো যেন যত্নসহকারে দেখানো হয়।’

নিজস্ব প্রতিবেদক