আ.লীগ প্রার্থীর ‘শিবির-তকমা’, শঙ্কায় বিএনপি
বিভাগীয় শহর খুলনা থেকে ৬৪ কিলোমিটার দক্ষিণে শিবসা-কপোতাক্ষ নদের অববাহিকায় অবস্থান পাইকগাছা পৌরসভার। মাত্র ২ দশমিক ৫২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার মোট ভোটার ১২ হাজার ৬৮৫ জন।
সারা দেশের মতো এখানেও জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার। কে হবেন পরবর্তী মেয়র—এ নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জি এম আবদুস সাত্তার। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জামায়াতে ইসলামীর খুলনা (দক্ষিণ) জেলার বাইতুল মাল সম্পাদক আবদুল মজিদ। মেয়র পদে তিনজন প্রার্থী হলেও এখানে দ্বিমুখী লড়াই হবে বলেই ধারণা ভোটারদের।
১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করে এ পৌরসভা। ‘খ’ শ্রেণির এ পৌরসভার লোকবল সংখ্যা ২২। আর বার্ষিক আয় প্রায় এক কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমান মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলে দলীয় সব নেতাকর্মীকে সঙ্গে পাচ্ছেন না। এলাকায় তাঁর ব্যক্তিগত ইমেজ আছে। তবে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার অভিযোগ, তিনি ছাত্রশিবিরের সহসভাপতি ছিলেন এবং তাঁর মা সুফিয়া খাতুন জামায়াতের রোকন।
যদিও এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেলিম জাহাঙ্গীর। তাঁর দাবি, তিনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।
দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কামরুল হাসান টিপু বর্তমান মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। গত নির্বাচনে সেলিম জাহাঙ্গীরের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন টিপু।
সেই সংবাদ সম্মেলনে টিপু অভিযোগ করে বলেছিলেন, ‘সেলিম জাহাঙ্গীর জামায়াত পরিবারের সদস্য। তাঁর মা এখনো জামায়াতের রোকন, বাবা ইব্রাহিম জমাদ্দার শান্তি বাহিনীর নেতা ছিলেন। তাঁর দুই বোন ইসলামী ছাত্রশিবির নেত্রী হিসেবে পরিচিত।’
এবার টিপু নির্বাচন করছেন না। তবে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কোনো কাজেকর্মেও তিনি নেই বলে জানান তাঁর ঘনিষ্ঠরা।
এ ব্যাপারে মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। আমার মা রোকন-ফোকন কিছু না। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের বাসায় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল। মা সবাইকে রান্না করে খাইয়েছেন।’
মেয়র থাকাকালে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এ কারণে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের এ প্রার্থী।
অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জি এম আবদুস সাত্তার নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি ভোট কারচুপির আশঙ্কা করছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘দীর্ঘ ২৪ বছর পর এ এলাকায় ভোটারদের কাছে ধানের শীষ প্রতীক আসায় একটা আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ধানের শীষের গণজোয়ার দেখে সরকারি দল কারচুপি করতে পারে।’
এরই মধ্যে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারে অংশ নিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনার মতো নেতারা।
তবে এ পৌরসভায় জামায়াত নেতা আবদুল মজিদের দৃশ্যমান কোনো প্রচার দেখা যাচ্ছে না। তিনি নারকেল গাছ প্রতীকে লড়ছেন। অনেকের মতে, তিনি নির্বাচনের মাঠে আছেন মাত্র। জোর কোনো প্রচারে নেই।
পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, জামায়াত নেতা আবদুল মজিদ ভোটারদের কাছে গেলে জবাবদিহি করতে হচ্ছে, তাই তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন। এ ছাড়া ভোটাররা ধানের শীষ আর নৌকা প্রতীকের প্রতিযোগিতার মধ্যে নারকেল গাছ নিয়ে দাঁড়ানোকে ভালোভাবে গ্রহণ করেননি।
তিন মেয়র পদপ্রার্থীর পাশাপাশি এই পৌরসভার নয়টি সাধারণ কাউন্সিলর আর তিনটি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর আসনে মোট ৩৯ প্রার্থী রয়েছেন। তবে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনে কবিতা রানী দাস এরই মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
পাইকগাছা পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান এনটিভি অনলাইনকে জানান, এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীই লিখিত কোনো অভিযোগ করেননি।

মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, খুলনা