টিউবওয়েল পাড়ে গৃহবধূর মরদেহ, স্বামীসহ বাড়ির লোকজন পলাতক
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় নিজ বাড়ির টিউবওয়েল পাড় থেকে আরিফা আকতার (১৯) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধূর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক। নিহতের পরিবারের দাবি, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
আজ রোববার (১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার আওয়ালগাড়ী গ্রামের মাঠপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার আওয়ালগাড়ী মাঠপাড়া গ্রামের সুমন হোসেনের সঙ্গে তিন বছর আগে আরিফা আকতারের বিয়ে হয়। এটি ছিল আরিফার দ্বিতীয় বিয়ে। সুমন পেশায় একজন গ্রিল মিস্ত্রি। তাদের সংসারে রাইসা জান্নাত নামে দুই বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
নিহত আরিফা স্বজনরা জানায়, প্রায় এক বছর ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। আজ দুপুরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও বিরোধ দেখা দেয়। এ সময় সুমন হোসেন আরিফাকে মারধর করেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রতিবেশীরা আরিফার মৃত্যুর খবর তার বাবার বাড়িতে জানায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনরা বাড়ির টিউবওয়েল পাড়ে আরিফার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। তবে সেখানে দুই বছরের শিশু মেয়েসহ স্বামী, শ্বশুরবাড়ির কাউকে পাওয়া যায়নি।
নিহত আরিফার বাবা আবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বেলা ১১টার দিকে আমার মেয়ে ফোন করে ৫০০ টাকা চেয়েছিল। বিকেলে তার মৃত্যুর খবর পাই। এসে দেখি, মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আত্মহত্যার কথা বলে সবাই পালিয়ে গেছে। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। নাতনিটারও কোনো খোঁজ মিলছে না।
মুঠোফোনে অভিযোগ অস্বীকার পলাতক স্বামী সুমন হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমরা কেউ তাকে হত্যা করিনি।’
মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে উপপরিদর্শক (এসআই) সাদমান হোসেন বলেন, মরদেহের গলায় ফাঁসের চিহ্ন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি জানান, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং পলাতকদের আটকের চেষ্টা চলছে।

এস আই পাভেল, জয়পুরহাট (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর)