ভৈরবে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত আরো ৫০ জন হাসপাতালে ভর্তি
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি উৎসব উপলক্ষে বিতরণ করা বিরিয়ানি খেয়ে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত আরো কমপক্ষে ৫০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়।
এদিকে গতকাল রাত পর্যন্ত ভর্তি হওয়া রোগীদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরো ৩০ জন নতুন করে ভর্তি হয়েছেন। এসব তথ্য এনটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. বুলবুল আহম্মদ।
আজ সকাল থেকে কালিকাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প গঠন করে আক্রান্ত লোকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। সিভিল সার্জনের নির্দেশে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দ্বীন ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্য ওই ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা দেন। বিকেল পর্যন্ত সেখানে ২২৪ জন আক্রান্তকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডা. দ্বীন ইসলাম। এর মধ্যে ১০ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
আজ সকালে কিশোরগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মুখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে একটি পরিদর্শক দল কালিকাপ্রসাদ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইদুজ্জামান, আরএমও বুলবুল আহম্মদ ওই দলের সঙ্গে ছিলেন। পরিদর্শনকালে তাঁরা আক্রান্ত রোগীদের স্বজনসহ এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।
অন্যদিকে আজ দুপুরে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহজাহান মিয়ার নেতৃত্বে একটি দল কালিকাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তদন্ত সাপেক্ষে স্কুল কর্তৃপক্ষের দোষ-ত্রুটি বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অসুস্থ রোগী ও তাদের পরিবারের লোকজন জানায়, ২৬ ডিসেম্বর শনিবার স্থানীয় কালিকাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনার আয়োজন করে আয়োজক কমিটি। দিনভর অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে আগত দর্শকের মধ্যে রান্না করা বিরিয়ানির প্যাকেট বিতরণ করা হয়। তারা ওই বিরিয়ানির প্যাকেট যার যার বাড়ি নিয়ে গিয়ে খায়। খাবার গ্রহণের পর সন্ধ্যা থেকে তারা বমি, পেটব্যথাসহ পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হয়। তারা প্রথমে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার ও সোমবার ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে অসুস্থ আছিয়া বেগম স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে গেলে রাতে তাঁর অবস্থার অবনতি হয় এবং রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব