খন্দকার মোশাররফের জামিন আপিলে বহাল
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আজ রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। ফলে তাঁর মুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে বাসসকে জানিয়েছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী।
ড. মোশাররফের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব আরো জানান, গত বছর ১৯ আগস্ট খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। পরে এ জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। চেম্বার জজ বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত করে তা শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে বিষয়টি নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং আসামি খন্দকার মোশাররফের পক্ষে ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, ড. মোশাররফের ছেলে ব্যারিস্টার মারুফ হোসেন।
খুরশীদ আলম খান বলেন, আদালত কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়ে দুদকের আবেদনটি আজ নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে খন্দকার মোশাররফের পাসপোর্ট-সংশ্লিষ্ট কাগজ আদালতে জমা দিতে হবে। তাঁর যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে, সেই হিসাবে কোনো লেনদেন করা যাবে না। তিন মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতে মামলাটির বিচার শেষ করতে হবে। মামলাটির বিচার দীর্ঘায়িত করতে আসামিপক্ষ কোনো অগ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নিলে বিচারিক আদালত ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের জামিন বাতিল করতে পারবেন।
দুদক পরিচালক নাসিম আনোয়ার ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় নয় কোটি ৫৪ লাখ টাকা টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী থাকাকালে খন্দকার মোশাররফ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দেশের বিদ্যমান আইন না মেনে পাচার করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের লয়েডস টিএসবি অফশোর প্রাইভেট ব্যাংকিংয়ে স্ত্রীর সঙ্গে যৌথ নামে ‘ফিক্সড টার্ম ডিপোজিট’ নামের হিসাবে আট লাখ চার হাজার ১৪২ দশমিক ১৩ ব্রিটিশ পাউন্ড জমা করেন। ১১৮ দশমিক ৬৩ টাকা হারে ওই জমা করা ব্রিটিশ পাউন্ডের বাংলাদেশি মূল্যমান নয় কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮১ টাকা। বিদেশে জমা করা এ অর্থের বিষয়ে সম্পদ বিবরণী কিংবা আয়কর বিবরণী নথির কোথাও তিনি উল্লেখ করেননি। বিদেশে বৈদেশিক মুদ্রায় হিসাব খোলার বিষয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ বা তাঁর স্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেননি বলে মামলার এজাহারে বলা হয়।
মামলা হওয়ার পর মোশাররফ হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিলেও আপিল বিভাগ পরে তা বাতিল করে দেয়। এর পর ২০১৪ সালের ১২ মার্চ গুলশানের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলাটিতে বিচারিক আদালত গত বছর ২৮ অক্টোবর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচারিক আদালতে বর্তমানে এ মামলার বিচারকাজ চলছে।

অনলাইন ডেস্ক