বিপিএম পদক পাচ্ছেন নওগাঁর এসপি
বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম সেবা (বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল) পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মোজাম্মেল হক। নওগাঁ ও বগুড়া জেলায় সন্ত্রাস এবং নাশকতা প্রতিরোধ, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযানে সফল নেতৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের জন্য তাঁকে এই পদক দেওয়া হচ্ছে।
আজ সোমবার নওগাঁ জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
কাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে আয়োজিত পুলিশ সপ্তাহ ২০১৬ অনুষ্ঠিত বার্ষিক কুচকাওয়াজে মোজাম্মেল হককে এই পদকে ভূষিত করবেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক এর আগে পুলিশ বাহিনীতে কৃতিত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের জন্য আইজিপি পদক, বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট মেডেল (পিপিএম) সেবাসহ তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশের একমাত্র পুলিশ সুপার হিসেবে ডিজিটাল অ্যাওয়ার্ড পদকে ভূষিত হয়েছেন। তিনি ২০০৮ সালে শান্তিরক্ষা মিশনে বিচক্ষণতা ও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য শান্তি পদকে ভূষিত হন।
মোজাম্মেল হক ১৮তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন এবং ১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার পদে যোগ দেন। ২০১০ সালের ২০ অক্টোবর তিনি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি লাভ করে জয়পুরহাট জেলায় যোগ দেন। জয়পুরহাট জেলায় তিনি সফলতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার, কালাই উপজেলার কয়েকটি গ্রামে অবৈধ এবং অমানবিকভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে কিডনির পাচারের ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
এই সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে মোজাম্মেল হককে ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে পুলিশ সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি পুলিশ ইউনিটের মধ্যে দ্বিতীয় হিসেবে পিপিএম পদক দেওয়া হয়। ২০১২ সালের ২৭ জানুয়ারি তিনি বগুড়ার পুলিশ সুপার হিসেবে হিসেবে যোগ দেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩ জুন তিনি নওগাঁর পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেন। এখন পর্যন্ত তিনি গণমুখী পুলিশিং ব্যবস্থা গ্রহণ করে জেলার মাদক, সন্ত্রাস, নাশকতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া এশিয়া, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পেশাগত দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
মোজাম্মেল হক ১৯৬৮ সালে ১৫ জানুয়ারি পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার কাশীপুর গ্রামে নানার বাড়িতে সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম আবদুল জব্বার বিশ্বাস। মায়ের নাম মোমেনা বেগম। ১৯৮৪ সালে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বিভাগে এসএসসি, ১৯৮৬ সালে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৯২ সালে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে ডিভিএম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একই প্রতিষ্ঠানে এমএস কোর্সে ভর্তি হন। ১৮তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি বিবাহিত। স্ত্রী সুলতানা হক কণা একজন গৃহিণী। তিনি মেধাবী দুই মেয়ে ও এক ছেলেসন্তানের জনক।

আসাদুর রহমান জয়, নওগাঁ