মানিকগঞ্জের এনজিও কর্মকর্তা নিখোঁজ
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) সোসাইটি ফর ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়াটিভের (এসডিআই) মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা শাখার হিসাবরক্ষক ফিরোজ কবির (৩২) দুইদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়ে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে এসে নিখোঁজ হন তিনি। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পেছনে এসডিআইয়ের ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন জুয়েল জড়িত থাকতে পারেন বলে স্বজনরা সন্দেহ করছে।
এ ঘটনায় রোববার বিকেলে মানিকগঞ্জ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন নিখোঁজ ওই কর্মকর্তার ভগ্নিপতি মঞ্জুরুল হক লিপু। ফিরোজ পাশের ঢাকার ধামরাই উপজেলার দেলদা গ্রামের মৃত ইছাহাক আলীর ছেলে।
মঞ্জুরুল হক লিপু জানান, ফিরোজ এসডিআই এনজিওতে চার বছর ধরে চাকরি করেন। এর মধ্যে দুই বছর ধরে তিনি বাঁচামারা শাখায় কর্মরত। কার্য দিবসগুলোতে কর্মস্থলেই থাকেন ফিরোজ। আর ছুটির দিনে বাড়িতে তিনি বৃদ্ধা মা ও দুই বোনের কাছে আসেন। গত শুক্রবার ছুটিতে বাড়ি এলে বিকেলে ওই শাখার ব্যবস্থাপক জুয়েল জরুরি ফোন দিয়ে তাঁকে কর্মস্থলে যেতে বলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ি থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়ে এক ঘণ্টা পর মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছান তিনি। এ সময় ফিরোজ মোবাইল ফোনে তাঁর (লিপু) সঙ্গে কথাও বলেন। এরপর থেকে ফিরোজের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পায়নি স্বজনরা। এ কারণে থানায় জিডি করা হয়েছে বলেও জানান লিপু।
ফিরোজের বোন তামমিন নাহার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ভাই নিখোঁজ হওয়ার পেছনে ওই ব্যবস্থাপক জুয়েলের হাত থাকতে পারে। জুয়েলের সঙ্গে আমার ভাইয়ের অফিশিয়ালি নানা কাজে মতবিরোধ ছিল। এ কারণে তিনিই আমার ভাইকে ছুটির দিনে ডেকে নিয়ে নিখোঁজ করেছেন।’
এ ব্যাপারে ওই শাখার ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন জুয়েল সাংবাদিকদের জানান, ফিরোজ নিখোঁজ হলেও অফিসের কোনো আর্থিক অসঙ্গতি কিংবা টাকা-পয়সার গড়মিল পাওয়া যায়নি। কী কারণে এমনটা ঘটল তা তিনি জানেন না।
মানিকগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিউল আযম জানান, স্বজনদের সন্দেহের বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে। আর পুলিশ নিখোঁজ ওই এনজিও কর্মকর্তার সন্ধানে প্রযুক্তিগতসহ সব রকম চেষ্টা করছে।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ