সুন্দরবনে নদীতে ভাসছে ৩ ‘বনদস্যুর’ লাশ
সুন্দরবনে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই দল বনদস্যুর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার দুই দিন পর আজ বুধবার দুপুরে ওই এলাকায় তিনজনের লাশ ভাসতে দেখেছেন জেলেরা। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাশগুলো উদ্ধার হয়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বন বিভাগ জানিয়েছে, নিহত দস্যুদের লাশ পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জের সীমান্তবর্তী চরাপুটিয়া এবং কোকিলমনি নদীর মধ্যবর্তী স্থানের দুর্গম এলাকায় ভাসতে থাকায় খবরটি জানতে দেরি হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাটি দূরবর্তী সীমান্তে। দুর্গম ওই এলাকায় টহল না থাকায় বন বিভাগ বিষয়টি যথা সময়ে জানতে পারেনি বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহমেদ।
বন বিভাগ ও জেলে-মহাজন সূত্র জানায়, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কোকিলমনি ও চাঁদপাই রেঞ্জের চরাপুটিয়ার সীমান্তবর্তী নদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও মাস্টার বাহিনী। চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে থাকা জাহাঙ্গীর বাহিনী সোমবার গভীর রাতে পশ্চিম সুন্দরবনের নলিয়ান রেঞ্জের ভদ্রা নদীতে ঢুকে পড়ে। এ সময় ভদ্রা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকারী মাস্টার বাহিনী জাহাঙ্গীর বাহিনীকে ধাওয়া করে। পরে উভয় পক্ষ বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। থেমে থেমে কয়েক দফা ধরে চলা বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে নদীতে পড়ে যায়। পরাস্ত হয়ে জাহাঙ্গীর বাহিনী পালিয়ে যায়। ঘটনার দুই দিন পর আজ বুধবার দুপুরে ওই এলাকায় তিন দস্যুর লাশ ভাসতে দেখেন জেলেরা। তবে সন্ধ্যায় পর্যন্ত ওই এলাকায় ভাসতে থাকা লাশগুলো উদ্ধার হয়নি।
এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক কামাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবনের সীমান্তবর্তী নদী এলাকায়। ওই এলাকা সাধারণত দুর্গম ও নিজ নিজ স্টেশন থেকে দূরে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত বনকর্মী না থাকায় বন প্রহরীদের নিয়মিত টহল ব্যাহত হয়। এসব কারণে বিষয়টি জানতে দেরি হয়েছে। তবে তিনি ঘটনা সম্পর্কে বলেন, এক বাহিনী অন্য বাহিনীর আধিপত্য বিস্তার করা এলাকায় ঢুকে পড়ায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে।

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা