ব্যবসায়ী খুন, আতঙ্কে খুলছে না সরাইলের মৎস্য আড়ত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মৎস্য ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এই ঘটনায় ব্যবসায়ীরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বন্ধ আছে উপজেলার একমাত্র মৎস্য আড়ৎ। হুমকি ও হামলার ভয়ে আড়ৎ খুলতেও সাহস পাচ্ছে না ব্যবসায়ীরা।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের জন্য চাঁদা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২০ ফেব্রুয়ারি প্রাতঃবাজার মৎস্য আড়তে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হন মৎস্য ব্যবসায়ী কিরণ মিয়া। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। এ সময় দুর্বৃত্তরা নগদ প্রায় সাত লাখ টাকা ও পাঁচ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। আজ বুধবার ঘটনার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
হত্যার ঘটনায় উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. শের আলম মিয়াকে প্রধান আসামি করে ২১ জনের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তবে ঘটনার ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত ২০ ফেব্রুয়ারি সকালে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শের আলম তাঁর লোকজন নিয়ে প্রাতঃবাজার মৎস্য আড়তে এসে ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে প্রত্যেক আড়তদারের কাছে এক হাজার করে টাকা চাঁদা দাবি করে সন্ধ্যার মধ্যে টাকা পরিশোধের কথা বলে চলে যান। পরে রাতে ৮টায় শের আলম তাঁর দলবল নিয়ে আড়তে এসে এক হাজার টাকা করে দাবি করলে ব্যবসায়ীরা টাকা দিতে অস্বীকার করলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে মৎস্য আড়তে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে নগদ প্রায় সাত লাখ টাকা ও পাঁচ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় প্রায় তিন লাখ টাকার মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আরমান জানান, এই ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তার অভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আরশাদ এনটিভি অনলাইনকে জানান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে ২১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
এদিকে অভিযুক্ত যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. শের আলম মিয়া মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।’

শিহাব উদ্দিন বিপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া