জয়ের পর আ. লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজনের হামলা
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী আবদুর রশিদের নির্বাচনী পাঁচ এজেন্ট ও সমর্থকের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় বাড়ির লোকজনকে মারপিট করা হয়। ইটপাটকেল ছুড়ে মোটরসাইকেলসহ ব্যাপক ভাঙচুর করেন হামলাকারীরা।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল লতিফ জয়ী হয়ে তাঁর সমর্থকরা বাচামারা এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ও আজ শুক্রবার সকালে পৃথকভাবে এই হামলা চালান বলে আহত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
আহত ব্যক্তিরা হলেন বাচামারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও দলীয় প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট মোহাম্মদ. আলী সিদ্দিকী, তাঁর ভাই মাহবুব হোসেন, প্রতিবেশী বারেক ফকির, লিয়াকত আলী ও নুরুল ইসলাম ভিক্কা।
বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের হামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে ওই এলাকায়।
মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার আবদুল লতিফ ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাতেই তার ৩০ থেকে ৪০ জন সমর্থক মাহবুব হোসেন ও বারেক ফকিরের বাড়ি হামলা চালায়। এ সময় তাঁরা বাড়ির লোকজনদের মারপিট ও ভাঙচুর করে। এরপর আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিজয় মিছিল বের করে তাঁর (মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী) বাড়িতে হামলা করেন তারা। নারীদের লক্ষ্য করে ইটের ঢিল ছোড়ে তারা। আর লিয়াকত ও নুরুলের বাড়িতেও ওই সমর্থকরা হামলা চালান। নুরুলের ছেলে সাদ্দাম হোসেনকে মারধর করে একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
আহত মাহবুব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘হামলার ঘটনায় আজ শুক্রবার দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ মামলা রেকর্ড করেনি।’
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল নিশাত জানান, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ওই এলাকায় পুলিশও মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের কারো কোনো লিখিত অভিযোগ হাতে আসেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি।
দ্বিতীয় দফার ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের হরিরামপুর ও দৌলতপুর উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। একযোগে ১৮২টি কেন্দ্রে সকাল ৮টায় শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ বিকেল ৪টায় শেষ হয়। ভোট গণনা শেষে স্ব স্ব কেন্দ্র থেকে ফলাফল জেনে চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে জয়ীদের অনেকে তাৎক্ষণিক আনন্দ মিছিল বের করেন।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ