চতুর্থ ধাপে ৪২ প্রার্থীর জন্য মশাল দাবি ইনুর
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তৃতীয় ধাপের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) দুই অংশের প্রার্থীদের জন্যই দলীয় প্রতীক ‘মশাল’ বরাদ্দ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এবার চতুর্থ ধাপের জন্য ৪২ জন প্রার্থীর নাম উল্লেখ করে তাঁদের দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জাসদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার। এই অংশের সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনে জাসদের এক অংশের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার স্বাক্ষরিত চিঠি ইসিতে জমা দেওয়া হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ( সিইসি) কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘ইউপি নির্বাচনের চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের জাসদ মনোনীত ৪২ জন প্রার্থী নিজ নিজ এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁদের মশাল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি।’
চিঠিতে বিভিন্ন জেলার ৪২টি ইউনিয়নে জাসদ মনোনীত প্রার্থীদের তালিকাও দেওয়া হয়।
এর আগে গতকাল রোববার দলীয় নাম, নিবন্ধন ও প্রতীক সুরক্ষার জন্য সিইসি বরাবর চিঠি পাঠান ইনু। তার আগের দিন তৃতীয় ধাপে উভয়পক্ষের প্রার্থীদের ‘মশাল’ নিয়ে নির্বাচনের অনুমতি দেয় ইসি। এর আগে ৬ এপ্রিল ‘মশাল’ নিয়ে উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে ইসি। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, তৃতীয় দফায় একই ইউপিতে উভয়পক্ষের প্রার্থী নেই ফলে কোনো জটিলতা নেই। তবে চতুর্থ ধাপে এই জটিলতা তৈরি হবে। এ ক্ষেত্রে চতুর্থ ধাপের প্রতীক বরাদ্দের আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে হবে। স্থায়ী কোনো সমাধান ওই শুনানিতে না দিয়ে ইউপি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ‘মশালের’ দাবি নিয়ে জটিলতা হলে তা মেটানোর দায়িত্ব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি জাসদের জাতীয় সম্মেলন রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়। কমিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই ভাগ হয়ে যায় দলটি। সংসদ সদস্য শিরীন আখতারকে সাধারণ সম্পাদক করার বিরোধিতা করে গত ১২ মার্চ দলের কাউন্সিল থেকে বেরিয়ে আলাদা কমিটি ঘোষণা করে দলটির একটি অংশ। শিরীন আখতারের সঙ্গে সভাপতি হিসেবে রয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
অপর অংশে শরীফ নুরুল আম্বিয়াকে সভাপতি ও সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এই কমিটিতে কার্যকরী সভাপতি হয়েছেন সংসদ সদস্য মঈনউদ্দীন খান বাদল।
এরপর জাসদের দুই পক্ষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে গত ৬ এপ্রিল দুই পক্ষকে ডাকে নির্বাচন কমিশন। এদিন বেলা ১১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে ইসির সম্মেলন কক্ষে প্রথমে শুনানিতে অংশ নেন জাসদের এক পক্ষের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার।
ওই দিন বিকেলে শুনানিতে অংশ নেন সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান। শুনানিতে দুই পক্ষই প্রতীক হিসেবে মশালের দাবি জানিয়েছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা