বাস শ্রমিকদের কৌশলে পাচার থেকে রক্ষা তিন শিশুর
বিআরটিসি বাসের কর্মচারীদের কৌশলে পাচারের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার তিন শিশু। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বাসচালক ও তাঁর সহকারী তিন শিশুকে নিয়ে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় পুলিশের হেফাজতে দেন। পুলিশের ধারণা, পাচারের জন্য এই তিন শিশুকে বাসে উঠানো হয়েছিল।
এরা হলো ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার দাদপুর গ্রামের কাওসার বেগের ছেলে ডালিম (১২), বাবলু শেখের মেয়ে লাবনী (৭) ও ছেকেন শেখের মেয়ে অনন্যা (৬)। লাবনী ও অনন্যা চাচাতো বোন। তাদের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার দাদপুরে। দাদপুরেই ডালিমের নানার বাড়ি। ডালিমের পরিবার ওই গ্রামেই থাকে।
নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদত হোসেন খান জানান, বিআরটিসি বাসের লোকজন তিন শিশুকে থানায় এনে পুলিশের হেফাজতে দেয়। আজ বুধবার পুলিশ তিন শিশুকে ফরিদপুরের নগরকান্দা থানা পুলিশের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
শিশু পাচারকারী চক্র কৌশলে তিন শিশুকে অপহরণ করে রাজশাহীতে পাঠায় বলে ধারণা ওসির। তিনি বলেন, শিশু তিনটিকে যারা বাসে তুলে দিয়েছে, তাদের নির্দেশ মতো বিআরটিসি বাসের চালক ও তাঁর সহকারী কাজ করলে শিশু তিনটি পাচার হয়ে যেত।
বিআরটিসি বাসের চালকের সহকারী কামাল হোসেন বলেন, মঙ্গলবার তারা যাত্রী নিয়ে বরিশাল থেকে রাজশাহী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছিলেন। পথে কালমা বাসস্ট্যান্ডে কয়েকজন যুবক তিন শিশুকে বাসে তুলে দিয়ে রাজশাহী নগরীর শালবাগান এলাকায় নামিয়ে দিতে বলে। এজন্য তাদের ভাড়া হিসেবে ৪০০ টাকাও দেয় তারা। কিন্তু বাসের লোকজন তাদের নির্দেশ মতো কাজ না করে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে রাজশাহী নগরীতে আসার পর বাস নিয়ে চলে যান বোয়ালিয়া মডেল থানার সামনে। শিশুদের দেওয়া হয় পুলিশি হেফাজতে।
তিন শিশু ও বিআরটিসি বাসের লোকদের সঙ্গে কথা বলার ভিত্তিতে ওসি শাহাদাত হোসেন খান বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে তিন শিশুকে জোর করে কয়েকজন যুবক রাজশাহীগামী বিআরটিসি বাসে তুলে দেয়। বাসের তত্ত্বাবধায়ক বাচ্চাদের না নিতে চাইলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। এই তিন শিশুকে রাজশাহী নগরীর শালবাগান এলাকায় নামিয়ে দিতে বলা হয়। তবে যারা শিশুদের বাসে তুলে দিয়েছে, তাদের কেউ বাসে ওঠেনি। হয়তো শিশুদের পাচারের উদ্দেশ্য ছিল তাদের। শিশুদের নিয়ে বাসের লোকজন থানায় চলে যাওয়ায় খারাপ কিছু হয়নি।
খবর পেয়ে আজ সকালে ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার পুলিশ নিয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় যান লাবনী ও অনন্যার বাবা। সঙ্গে ছিলেন শিশু দুটির চাচাতো ভাই নজরুল ইসলাম। তিনি ফরিদপুরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, লাবনী ও অনন্যা মঙ্গলবার সকালে বাড়ির বাইরে খেলতে যায়। দুপুর পর্যন্ত তারা বাড়িতে ফেরেনি দেখে বাড়ির লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। কোথাও তাদের পাওয়া যায়নি।
দুপুর ২টার পর রাজশাহীগামী একটি বিআরটিসি বাসের এক যাত্রী ডালিমের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নম্বর নিয়ে তার পরিবারের কাছে ফোন করেন। ডালিমের পরিবার তখন বিষয়টি লাবনী ও অনন্যার পরিবারকে জানায়। তিনি ওই যাত্রীর মাধ্যমে বাসের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে কথা বলেন এবং অনুরোধ করেন শিশু তিনটিকে যেন তাঁদের হেফাজতে রাখেন। রাত ১০টার দিকে বাসটি বোয়ালিয়া থানায় গিয়ে লাবনী, অনন্যা ও ডালিমকে পুলিশের জিম্মায় দেন।
বোয়ালিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিউলি বলেন, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিশু তিনটিকে নগরকান্দা থানার পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। নগরকান্দা থানায় গিয়ে পুলিশ পরিবারের কাছে শিশুদের বুঝিয়ে দেবে।

শ. ম সাজু, রাজশাহী