সাভারে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে পারাপার
সেতুর পাটাতন থেকে খুলে পড়ছে পলেস্তারা, বালু, সুরকি আর ইটের টুকরো। পাটাতনের নিচে পিলারের কংক্রিট ভেঙে উঁকি দিচ্ছে লোহার রড। এর মধ্য দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে শত শত যানবাহন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে ঢাকার আশুলিয়ায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ল্যান্ডিং স্টেশনের পাশে ধোউর এলাকার এ সেতু।
সরেজমিনে দেখা যায়, এইচ এম এরশাদের শাসনামলের প্রথম দিকে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়ক নির্মাণের সময় সেতুটি তৈরি করে ঢাকা সড়ক বিভাগ। তবে সড়কের অন্যান্য সেতুর তুলনায় আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এটি। এরই মধ্যে সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ঢাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।
ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটির ওপর ও নিচ দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে বিভিন্ন যান। এতে দুই দিক থেকেই চাপ খাচ্ছে এটি। এর নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া তুরাগ নদে বিভিন্ন ধরনের নৌযান, ভারী ড্রেজার ও ছোট-বড় শতাধিক ট্রলার চলাচল করায় এটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় জাকির হাসান বলেন, প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো নৌযান সেতুটির পিলারে ধাক্কা দেয়। দিনের তুলনায় রাতেই বেশি ঘটে এ ঘটনা। নৌযানগুলো মালভর্তি থাকলে শব্দ হয় বিকট। এতে পুরো সেতু কেঁপে ওঠে। এভাবে সেতুটির কয়েকটি পিলার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেকোনো সময় সেতুটিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ঢাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের বনানী অঞ্চলের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা জারি করেও সেতু দুটিকে নৌযানের আঘাত থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। পিলারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এটিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ সেতু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণে অর্থ বরাদ্দের চেষ্টা চলছে।’ তিনি বলেন, অর্থের ব্যবস্থা করা সম্ভব হলেই সেখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণ শুরু করা হবে।
