ফরিদপুরে নির্বাচনী সহিংসতা, আহত ৪০
ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও নগরকান্দা উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে।
আজ রোববার ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নে এবং গতকাল শনিবার নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, ঘারুয়া ইউনিয়নের হাজরাকান্দি গ্রামে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংর্ঘষ হয়েছে। এ সময় পুলিশের উপপরিদর্শক আনোয়ার, বাসার, আশিকুজ্জামান ও তিন পুলিশ কনস্টেবলসহ ৩০ গ্রামবাসী আহত হয়েছে। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি লাঠিপেটা করে। ঘটনাস্থল থেকে ছয় গ্রামবাসীকে আটক করে পুলিশ।
জানা গেছে, দুপুরে জুলহাস মেম্বারের সমর্থক টিপু খানকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে বুলবুল মেম্বারের লোকজন। এ খবর রটে গেলে উভয় পক্ষের লোকজন রামদা, বল্লম, টেটা, কালি, সরকিসহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নে নির্বাচন পূর্ব সহিংসতায় প্রায় ১২ জন আহত হয়েছে। এ ইউনিয়নে আগামী ৮ জুন ভোট হবে।
জানা যায়, কাইচাইল ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোস্তফা হোসেন খান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কবির হোসেন ঠাণ্ডুর সমর্থকদের মধ্যে গতকাল শনিবার বিকেলে পোড়াদিয়া বাজারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, পোড়াদিয়া বাজারে দুই পক্ষের প্রচার মাইক একইসঙ্গে চলছিল। এ সময় নৌকার সমর্থকের লোকজন মাইকের শব্দ কমিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলে অপরপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়। এতে বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় মোস্তফা হোসেন খানের সমর্থক শামচেল মাতুব্বর (৫৫), শাকিল খান (১৮), অদুদ মাতুব্বর (৬০), এস্কেন্দার (৫৫) সহ আরো কয়েকজন এবং কবির হোসেন ঠাণ্ডুর সমর্থক হারেজ (৪৫), লাভলু (৩৫), শাবলুসহ কয়েকজন আহত হয়।
নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত দত্ত জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এসআই আরো জানান, আহতদের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর