মায়ের জানাজায় ছেলের মৃত্যু
যে ছেলে মায়ের মৃত্যুসংবাদ শুনে শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখতে ছুটে এসেছিলেন গ্রামের বাড়িতে, সেই ছেলেকেই শেষ পর্যন্ত শায়িত হতে হলো মায়ের মরদেহের পাশেই। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের এমন মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের অগ্রেরকোনা গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
গ্রামের বাসিন্দা আশাব উদ্দিনের স্ত্রী মোছা. বানেছা বেগম (৬০) গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ৮টার দিকে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার ছোট ছেলে আবুবক্কার ছিদ্দিক (৩৫) জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বুকভরা শোক নিয়ে দ্রুত গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাড়িতে পৌঁছে মায়ের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবুবক্কার। মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছিলেন এবং মরদেহের পাশে বসে অনবরত কাঁদছিলেন। পরবর্তীতে জানাজা চলাকালে হঠাৎ তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়েন আবুবক্কার। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে সামলানোর চেষ্টা করলেও সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
একদিকে মায়ের মরদেহ, অন্যদিকে ছেলের প্রাণহীন শরীর- এমন অবর্ণনীয় ও মর্মস্পর্শী দৃশ্য দেখে উপস্থিত শত শত মানুষ চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। আবুবক্কার ছিদ্দিক মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
আবু বক্কার ছিদ্দিকের বড় ভাই সোহরাব উদ্দিন বলেন, আমাদের মা অনেকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে আমার ছোট ভাই আবুবক্কার ঢাকা থেকে তাড়াহুড়ো করে বাড়িতে আসে। সে বারবার বলছিল, ‘আমি শুধু একবার মায়ের মুখটা দেখতে চাই।’ কিন্তু কে জানত, মায়ের জানাজায় অংশ নিতে এসে সেও আমাদের ছেড়ে চলে যাবে। একদিনে মা আর ভাইকে হারিয়ে আমরা যেন নিঃস্ব হয়ে গেছি।
প্রতিবেশি রফিকুল ইসলাম জানান, এমন ঘটনা এই এলাকায় আগে কখনও ঘটেনি। এক পরিবারের মা ও ছেলের পরপর মৃত্যুতে পুরো গ্রাম এখন শোকে স্তব্ধ।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বানেছা বেগমের জানাজা এবং আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ছেলে আবুবক্কার ছিদ্দিকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে মা ও ছেলেকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে।

মাহবুবুর রহমান, কিশোরগঞ্জ (বাজিতপুর-কটিয়াদি-নিকলী-পাকুন্দিয়া)