এক ভোট পেলেও নৌকা বিজয়ী হবে
দলীয় সিদ্ধান্ত না মানায় হয়রানির অভিযোগ করেছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গাজী খোরশেদ আলম।
আজ বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গাজী খোরশেদ আলম এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে কয়ড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরমান আলী, সমাজসেবক আব্দুল হামিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ষষ্ঠ ধাপে আগামী ৪ জুন এ ইউনিয়নে নির্বাচন হবে।
লিখিত বক্তব্যে স্বতন্ত্র এ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বলেন, ‘নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতারা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। গত ২৯ মে রাতে পুলিশ আমার সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে।’
‘আওয়ামী লীগ প্রার্থী হেলাল উদ্দিন ও তাঁর কর্মীসমর্থকরা প্রকাশ্যে বলছেন, এক ভোট পেলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিজয় হবে। নির্বাচনী কারচুপির জন্য ইউনিয়নের নয়টি ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের নিজস্ব লোকদের প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
গাজী খোরশেদ আলম বলেন, ‘কয়ড়া ইউনিয়নের এক ও দুই নম্বর কেন্দ্রে যে দুই প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপককে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেই দুই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্যে একান্ত সহকারী (পিএস)। পাঁচ, ছয় ও সাত নম্বর ভোটকেন্দ্রে যে সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজ। ওই যুবলীগ নেতা প্রথম থেকেই আমাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য হুমকি দিচ্ছেন।’
স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সংবাদ সম্মেলনে আরো দাবি করেন, ‘উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান কৌশিক আহমেদ নির্বাচন শুরুর পর থেকেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে আমার কর্মী-সমর্থকদের হয়রানি করছেন। কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছেন।’
এ অবস্থায় প্রিমাইডিং অফিসার পরিবর্তনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্বতন্ত্র এ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হেলাল উদ্দিন, ওসি দেওয়ান কৌশিক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা