জিল্লুর রহমান শহর রক্ষা বাঁধ-সড়কের বেহাল দশা
মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভৈরব নদীবন্দর ও শহর রক্ষায় নির্মিত জিল্লুর রহমান শহররক্ষা বাঁধ এবং বাঁধ ঘেঁষে তৈরি করা রাস্তাটির বেহাল দশা হয়েছে। এতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
নিম্নমানের কাজ হওয়ায় রাস্তাটির অধিকাংশ স্থানে খানাখন্দ আর বাঁধের জমি অবৈধ দখলদারদের কাছে চলে গেছে। এতে ওই এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যসহ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ২০১০-১১ অর্থবছরে ২১ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের নামে নির্মাণ করে এক হাজার ৮৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের ‘জিল্লুর রহমান ভৈরব শহররক্ষা বাঁধ’ ও বাঁধঘেষা ৭০০ মিটার সড়ক।
২০১২ সালের ১৬ জুন এ কাজের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সাংসদ নাজমুল হাসান।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজের ফলে বছর না ঘুরতেই সড়কটির অধিকাংশ স্থানে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে বাঁধ এলাকাজুড়ে অবৈধ দখলদারদের করাল থাবায় অল্পদিনের ব্যবধানেই গড়ে ওঠে শত শত স্থাপনা। সড়কটির পাশে বেশ কয়েকটি পরিবহন সংস্থা (ট্রান্সপোর্ট) গড়ে ওঠায় এবং ওই সব পরিবহন সংস্থার মালামাল রাস্তার ওপর লোড-আনলোড করায় ভৈরব লঞ্চ ও কার্গো টার্মিনাল থেকে যাত্রীসাধারণ ও পণ্য বিকল্প পথে পারাপার করে বন্দর শহরটির যানজট নিরসন করার পরিকল্পনাও ভেস্তে যায়। উল্টো জনভোগান্তি বেড়ে বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। অন্যদিকে রাস্তা ও বাঁধের ওপর কয়েকশ লোক প্রতিদিন পুরাতন ড্রাম মেরামতের কাজ করে। তাদের রাখা সারিবদ্ধ হাজার হাজার ড্রাম রাস্তা ও বাঁধের ওপর রাখায় যান চলাচলসহ মানুষের যাতায়াতে অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম খান ও শাকিল মুন্সী জানান, রাস্তাটির বেহাল দশায় বন্দর এলাকায় বহু আগে থেকে গড়ে ওঠা পেঁয়াজ-রসুন ও ধান-চালের আড়তের মালামাল ঠিকমতো পরিবহন করা যাচ্ছে না। তাদের আড়তে মালামাল সহজে পরিবহন করতে না পারায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাইকারি ক্রেতা-বিক্রেতারা ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন। এতে করে তাঁরা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এদিকে এ পথে চলাচলকারী যানবাহনের চালকরা জানান, রাস্তাটির বেহাল দশায় তাঁদের যানবাহন চালনায় বিঘ্ন ঘটছে। প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় পড়ছেন তাঁরা।
এই সড়ক দিয়ে চলাচলাকারী কয়েকজন যাত্রী জানান, চরম দুর্ভোগের মধ্যে তাঁরা এই পথে যাতায়াত করছেন। আর যাতায়াতকালে প্রায়ই শিকার হচ্ছেন দুর্ঘটনার। এতে করে তাঁদের জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
সড়কটির নির্মাণকালে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ হওয়া, অবৈধ দখলদার, ট্রান্সপোর্ট ও ড্রাম ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যের কথা স্বীকার করেছেন ভৈরব পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাছ। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, এই অনিয়ম ও দৌরাত্ম্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যেহেতু রাস্তাটি রেলওয়ের ভূমিতে, তাই অচিরেই এ বিষয়ে রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। জনকল্যাণে গ্রহণ করা হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব