ঘটকালির টাকা চাওয়ায় ঘটককে পিটিয়ে হত্যা!
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় আবদুর রশীদ বিশ্বাস (৪০) নামের এক ঘটককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিয়ের ঘটকালির পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন আবদুর রশীদ বিশ্বাসকে পিটিয়ে আহত করে।
মুমূর্ষু অবস্থায় রশীদকে জরুরিভাবে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মাগুরা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় হামিদ বিশ্বাস জানান, উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের ঘটক আবদুর রশীদ বিশ্বাস মাস দুয়েক আগে প্রতিবেশী ফিরোজ মণ্ডলের শ্যালিকাকে অবিবাহিত ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এতে মৌখিক সম্মতি জানান ফিরোজ। এরপর ফিরোজের শ্যালিকার জন্য অবিবাহিত ছেলে ঠিক করেন রশীদ। কিন্তু ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেননি ফিরোজ।
প্রত্যদর্শীরা আরো জানান, ঘটনার রাতে রশীদের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন ফিরোজ। এ সময় পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য তাগিদ দেন রশীদ। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ঘটক রশীদ বিশ্বাস তাঁকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ফিরোজের সমর্থকরা এসে রশীদকে পিটিয়ে আহত করেন।
দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে দুজনকেই মাগুরা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মাগুরা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রিয়াজুল ইসলাম ঘটক রশীদ বিশ্বাসকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ফিরোজকে মাগুরা থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ সংবাদ পেয়ে সোমবার রাত ১১টার দিকে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

শফিকুল ইসলাম শফিক, মাগুরা