বর্ষবরণে নারী হেনস্তাকারীদের শাস্তি দাবি শত নাগরিকের
পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণ উৎসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে নারী হেনস্তার ঘটনায় শত নাগরিক কমিটি গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়ে এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ ও সদস্য-সচিব কবি আবদুল হাই শিকদারের নেতৃত্বে সদস্যরা আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এ দেশের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের প্রাণের অনুষ্ঠান পহেলা বৈশাখ বা বর্ষবরণ উৎসব। আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ এই বর্ষবরণ উৎসবের মর্যাদা, সম্মান ও তাৎপর্যকে ভয়াবহ রকমভাবে কলঙ্কিত করেছে সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেড়ে ওঠা দুর্বৃত্তরা। চার স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য দিনের আলোয় হাজার হাজার মানুষের চোখের সামনে এই দুর্বৃত্তরা উৎসবে আগত নারীদের ওপর যে বর্বর, অসভ্য, অমানবিক ও পৈশাচিক নির্যাতন, বস্ত্রহরণ ও যৌন হয়রানি চালিয়েছে তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। আমরা স্তম্ভিত, উদ্বিগ্ন।’
শত নাগরিক কমিটি অভিযোগ করে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের উপস্থিতিতে দেড় ঘণ্টা ধরে নরপশুরা তাণ্ডব চালিয়েছে। অথচ পুলিশ অসহায় মেয়েদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি এবং দুর্বৃত্তদের পাকড়াও করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ছাত্র ইউনিয়নের যে নেতারা মেয়েদের রক্ষা করার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন তাঁরাও পুলিশের সামনেই দুর্বৃত্তদের দ্বারা মারাত্মকভাবে প্রহৃত হয়েছেন। এই দিকগুলি আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত ও মর্মাহত করেছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যেখানে পহেলা বৈশাখে অর্ধশত নারী যৌন নির্যাতন ও নানাবিদ লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন, সেখানেই কিছুদিন আগে অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা হয়। এর কাছাকাছি স্থানে এর আগেও নারীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এসব জঘন্য ও বর্বরতার বিরুদ্ধে সরকার শুধু দোষারোপের নোংরা রাজনীতি উপহার দেওয়া ছাড়া কার্যকর কোনো পদক্ষেপই নেয়নি বলেও বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে শত নাগরিক কমিটি।
গত মঙ্গলবার বর্ষবরণের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসএসি এলাকায় উচ্ছৃঙ্খল একদল যুবকের হাতে যৌন হেনস্তার শিকার হন একাধিক তরুণী। ওই ঘটনায় বুধবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করে।
বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার স্বপ্রণোদিত এই রুল দেন।
হাইকোর্ট ঘটনা তদন্ত করে আগামী ২৭ মের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ওই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এই মর্মে স্বপ্রণোদিত রুল জারি করেছেন।

অনলাইন ডেস্ক