নববধূকে নিয়ে ফিরছিল পরিবার, সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেল ১৩ জনই
আনন্দের উৎসব নিমেষেই বিষাদে পরিণত হলো বাগেরহাটের রামপালে। ছেলে সাব্বিরকে বিয়ে করিয়ে নতুন বউ নিয়ে মোংলায় ফিরছিলেন বাবা আবদুর রাজ্জাক। কিন্তু পথেই এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন রাজ্জাকসহ তার পরিবারের ১৩ জন সদস্য। মাইক্রোবাসটির চালক নাঈমও এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো মোংলা শহর স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আ. রাজ্জাক বুধবার রাতে ছেলেকে বিয়ে করাতে খুলনার কয়রায় যান। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে দুই জমজ শিশুসহ পরিবারের ১৫ জন সদস্য নিয়ে মাইক্রোবাসে করে মোংলার উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিকেল ৩টার দিকে রামপাল উপজেলার গুনাই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে তাদের মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ১৩ জন। নিহতদের মধ্যে রাজ্জাকের ছেলে জনি, আব্দুল্লাহ, আল-আমিন, মেয়ে ঐশী এবং তাদের স্ত্রী ও সন্তানরা রয়েছেন।
রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সুব্রত মণ্ডল জানান, মরদেহগুলো উদ্ধার করে চারটি রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ১০টি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যার পর বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে এই শোকাবহ ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সব ধরনের সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী নিজেও এই ঘটনায় গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আহমেদ জানান, নিহতরা সবাই একই পরিবারের এবং তারা মোংলার বাসিন্দা। মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ চালাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মেহনাজ মোশাররফ বলেন, আমাদের এখানে শিশুসহ ৯ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। তাদের মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা