হনুমান নিয়ে হুলুস্থূল
জয়পুরহাটে অজ্ঞাত স্থান থেকে হঠাৎ এসে আবির্ভূত হয়েছে এক হনুমান। ধূসর বর্ণের এ হনুমানটির হাত, পা ও মুখমণ্ডল কালো। চারদিন ধরে জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকার উঁচু গাছের ডাল, ভবনের ছাদ আর দেয়ালে ঝুলে, লাফিয়ে আনন্দ-উল্লাসে অবাধে বিচরণ করে বেড়াচ্ছে সে।
এ হনুমানকে একনজর দেখার জন্য সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শত শত হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছুটছে তার পিছু পিছু। একেবারে হুলুস্থূল কাণ্ড। শহরের আবাসিক এলাকা, রাস্তাঘাটসহ যেখানেই তার উপস্থিতির কথা শুনতে পাচ্ছে- সেখানেই গিয়ে জড়ো হচ্ছে মানুষ। পরম ভক্তিভরে ফলমূল এগিয়ে দিচ্ছে হনুমানের দিকে। তাদের বিশ্বাস, হনুমানকে একটু কিছু খাওয়াতে পারলে মনের আশা পূরণ হবে, মিলবে পুণ্য।
রামায়ণে বর্ণিত পবনপুত্র, রামভক্ত বীর হনুমান- যার অপর নাম ‘বজরংবলি’। হিন্দু পুরাণে হনুমানকে রামভক্ত দেবতা হিসেবে বিশেষ স্থান দেওয়া হয়েছে। রামায়ণে বর্ণিত আছে, রামায়ণের মূল চরিত্র রাম, যাকে হিন্দুরা ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে দাবি করে, তাঁর অনুগত চরিত্র হিসেবে পাওয়া যায় এই হনুমানকে। হনুমান রামের স্ত্রী সীতাকে উদ্ধারের জন্য লঙ্কায় অভিযান চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, গত মঙ্গলবার জয়পুরহাট সদর উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামে প্রথম হনুমানটির দেখা মেলে। এরপর বুধবার সকালে শহরতলির খঞ্জনপুর কুঠিবাড়ি ব্রিজসংলগ্ন একটি পাইকর গাছে তাকে দেখে এলাকার উৎসুক মানুষ। ক্রমে মুখে মুখে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে হনুমানের আগমন বার্তা। তখন থেকেই শত শত মানুষ, বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ ও শিশুরা এ হনুমানকে একনজর দেখার জন্য ছুটে এসে গাছের তলায় ভিড় জমায়।

ধারণা করা হচ্ছে, হনুমানটি ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে। হয়তো পাশের নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী আলতা দিঘির শালবন হয়ে হনুমানটি পথ ভুলে এসে পড়েছে। খঞ্জনপুর কুঠিবাড়ি ব্রিজ এলাকা থেকে হনুমানটি শহরে ঢোকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে। আর প্রথমেই গিয়ে মেহমানের মতো অবস্থান নেয় জেলা সদরের ডাকবাংলোর তেঁতুল গাছে।
এরপর সেখান থেকে লাফিয়ে চলে যায় র্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্পের ছাদে। পরে পাশের কুণ্ডুপাড়া হয়ে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ঘুরে অবস্থান নেয় শিবমন্দিরের বটগাছে। ওই সময় শিবমন্দির-সংলগ্ন সড়কে উৎসুক মানুষের ভিড়ে ওই এলাকা যানজটের সৃষ্টি হয়।
এদিকে মন্দিরে রামভক্ত হনুমান এসেছে- এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ধর্মপ্রাণ হিন্দু নারী-পুরুষ এসে ভিড় জমান মন্দিরে। তাঁরা হনুমান দর্শন করে প্রণাম জানান। এ সময় কেউ কেউ পবনপুত্রকে পেয়ারা, কলা, আপেলসহ নানা ফল দিয়ে তুষ্ট করেন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই হুনুমান হঠাৎ লাফিয়ে চোখের নিমিষে হারিয়ে যায়। পরে রাতে তাকে আবার দেখা যায় শহরের ধানমণ্ডি এলাকার জয়পুরহাট শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজের পাশেই পাইকর গাছের ডালে।
আজ শুক্রবার ভোরে লাপাত্তা হলেও বেলা ১১টার পর আবার হনুমানটিকে দেখা যায় আরামনগর মহল্লার সরকারি শিশুসদনের (এতিমখানা) নিকটবর্তী মেহগনি গাছে।
বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখান অবস্থান করে আবার লাপাত্তা হয়ে যায় হনুমানটি।
তবে স্থানীয় সাংবাদিক মোমেন মণি জানিয়েছেন, সন্ধ্যার দিকে হনুমানটিকে বিশ্বাসপাড়া মহল্লার দিকে যেতে দেখা গেছে।

শাহজাহান সিরাজ মিঠু, জয়পুরহাট