ইয়েমেন থেকে ফিরলেন আরো ৩৩৭ বাংলাদেশি
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন থেকে দেশে ফিরেছেন আরো ৩৩৭ জন বাংলাদেশি। আজ রোববার ভোররাত সাড়ে ৪টায় বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে এসব যাত্রী ভারতের কেরালা থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এর আগে ভারতের নৌবাহিনী এসব আটকেপড়া বাংলাদেশিদের জাহাজে করে ভারতে নিয়ে আসে। বোমা আর গুলির মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে প্রাণ নিয়ে ফিরলেও, তাঁদের সামনে রয়েছে বেকারত্বসহ নানা অনিশ্চয়তা।
বোমারু বিমানহামলা আর গোলার গর্জনে প্রাণে বাঁচার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন ইয়েমেনের এডেন, সানাসহ কয়েকটি শহরের বাংলাদেশিরা। সরকারের চেষ্টা আর ভারতের নৌবাহিনীর সহায়তায় জিবুতি থেকে কেরালা হয়ে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন তাঁরা। তবে যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি এখনো তাঁদের চোখেমুখে।
ঢাকায় নেমে এক নারী বললেন, 'সানায় ছিলাম, খাইতে পারি নাই। বোম পড়ছে তাই। গ্যাস ছিল না, পানি ছিল না।'
একজন পুরুষ শ্রমিক বললেন, 'বিমান যায় রাইতের বেলায়, বিমান থেকে বোমা ফালায়। কোন জায়গায় ফেলব তারা কিছুই জানে না। আমগো মোবাইলে ভিডিও আছে : শত শত মানুষ মইরা রইছে। কারো মাথা নাই, কারো পা নাই, কারো হাত নাই। চিনা যায় না।'urgentPhoto
হঠাৎ দেশে ফেরার সুযোগ পেয়ে সহায়-সম্বল তো দূরের কথা পায়ের জুতোজোড়াও আনার সুযোগ পাননি কেউ কেউ। তাই মায়ের কোলে ফেরার তৃপ্তি থাকলেও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা আছে তাঁদের সবার।
খালি পায়ে ঢাকায় ফেরা এক তরুণ বললেন, 'আসলে কাজে ছিলাম, হঠাৎ করে গোলাগুলি বেড়ে যায়। এরপর শুনতে পাইতেছি যে, আমাদের বাংলাদেশে নেওয়া হবে।'
বিমান বন্দরে ইয়েমেন থেকে উদ্ধার বাংলাদেশিদের গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'জিবুতি সরকারের সহায়তায় একটা আবাসস্থল আমরা টেম্পোরারি-ভাবে (সাময়িকভাবে) তৈরি করেছি। তাদের চিকিৎসা, খাওয়া-দাওয়া, দেখভালের দায়িত্ব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বহন করছে। আমরা আশা করছি, ২০ তারিখে বিমানের একটি ফ্লাইট যাবে, আমরা তাদের ফিরিয়ে আনতে পারব সরাসরি জিবুতি থেকে।'
সরকারি হিসেবে এ নিয়ে ৩৫৫ জন ফিরে এলেও আরো কতজন বাংলাদেশি ইয়েমেন রয়ে গেছেন তার সঠিক হিসাব নেই কারো কাছে।

আবু সালেহ জহির