সরকার নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত করছে : বিএনপি
সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে বিএনপি ও খালেদা জিয়া সম্পর্কে যেসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা নির্বাচনী পরিবেশকে বিঘ্নিত করবে। আজ সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন এ মন্তব্য করেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রী পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে খালেদা জিয়া সম্পর্কে, বিএনপি সম্পর্কে রেগুলার (নিয়মিত) বিষোদ্গার করা হয়। এটা কিন্তু নির্বাচনী পরিবেশকে খুবই উত্তপ্ত করে তুলছে।’
খালেদা জিয়া বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করছেন কি না, তা ভালো করে জেনে সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান আসাদুজ্জামান রিপন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান সরকারের প্রধান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেসব উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, তা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় সরকারের কাছ থেকে সংযম প্রত্যাশা করেন তিনি।
গতকাল রোববার উত্তরায় নির্বাচনী প্রচারে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা এবং আজ তাঁর বাসভবন থেকে নিয়মিত পুলিশি পাহারা প্রত্যাহার—এ সবকিছুই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা নির্বাচনী পরিবেশকে বিঘ্নিত করবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘গতকালকে পার্টির চেয়ারপারসন দলের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে যেখানে যাচ্ছিলেন, সেখানে তাঁর গাড়িবহরে হামলা হয়েছে, কালো পতাকা প্রদর্শন করা হয়েছে। পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর চলাচলকে বিঘ্নিত করা হয়েছে। এটা শাসক দলের লোকেরা করেছে। পত্রপত্রিকায় রিপোর্টে এটা প্রকাশিত হয়েছে। আমার বক্তব্য হচ্ছে, একজন নাগরিকের স্বাধীনভাবে তাঁর মুভমেন্ট করার অধিকার এটা কিন্তু সংবিধানস্বীকৃত। শাসকদলের কর্মীরা যেভাবে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশের প্রধান বিরোধী দলের নেত্রীকে তাঁর চলাচলের পথকে বিঘ্ন সৃষ্টি করা, বাধা প্রদান করা, অসৌজন্যমূলক আচরণ করা, এটা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। আমাদের পার্টি এটার তীব্র নিন্দা করছে।’
তাবিথ আউয়ালের বাস মার্কা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার করা মন্তব্যের প্রসঙ্গে টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের একজন মেয়র প্রার্থীর প্রতীক হচ্ছে বাস। সরকারপ্রধান বক্তৃতার মধ্যে যখন বলেন যে বাস পুড়িয়ে এখন বাস মার্কায় ভোট চান। এটা কিন্তু ভোটারদের মধ্যে প্রভাব সৃষ্টি করে। এটা নির্বাচনের বিধি লঙ্ঘন করে কি না, এটা নির্বাচন কমিশনকে খতিয়ে দেখার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিএনপির এই নেতা যোগ করেন, ‘দলের তরফ থেকে আমরা একটি কথাই বলতে চাই, সেটা হচ্ছে যে আমরা শান্তি চাই, সমঝোতা চাই। আমরা বিরোধী দল-সরকারি দল সবার মধ্যে একটা রাজনৈতিক উদ্যোগ, কার্যকর রাজনৈতিক সমঝোতা আমরা চাই, যাতে ডেমোক্রেসি প্রসিড করতে পারে।’
একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসনের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করার দায়িত্ব সরকারের। এবং সেটা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। সরকার সেটা নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন কোনো ত্রুটি, কোনো গাফিলতি প্রদর্শন না করে। আমরা আশা করব, যত ধরনের উসকানি সরকারের তরফ থেকে থাকুক না কেন, সরকারপ্রধান যেন কোনো মহলকে উসকানি থেকে বিরত রাখবেন, নিবৃত রাখবেন দলের বিভিন্ন নেতা এবং অন্যদের।’

নিজস্ব প্রতিবেদক