ফজলুর রহমানের অভাব পূরণ হওয়ার নয় : খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশের মানুষের প্রতি অত্যন্ত সহমর্মী ছিলেন ফজলুর রহমান পটল। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক রাজনীতিককে হারাল, যার অভাব সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
আজ শুক্রবার এক শোকবার্তায় বিএনপির চেয়ারপারসন তাঁর উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ফজলুর রহমান পটলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এ মন্তব্য করেছেন।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘ফজলুর রহমান পটল ছিলেন জাতীয় রাজনীতির একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তিনি তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে একজন সুদক্ষ সংগঠক এবং প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিএনপিতে যোগদান করার পর থেকে আমৃত্যু দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তাঁর জীবদ্দশায় দেশ ও দলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অকৃত্রিম। বিএনপির বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্রকে দৃঢ়চিত্তে মোকাবিলা করতে তিনি যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা দলের সব নেতাকর্মীর জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার ছিল অতুলনীয়। মানুষের নাগরিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন। এ জন্য স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল অনবদ্য। স্বাধীনতাযুদ্ধে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য তিনি যে অবদান রেখেছেন তা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
অপর এক শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফজলুর রহমান পটলকে দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের একজন অনন্য সংগঠক ও দেশের কীর্তিমান রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শন ও আদর্শের প্রতি অবিচল আস্থাশীল এই মানুষটি তাঁর সূদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে গেছেন। দলের নানামুখী সংকট এবং দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও দুঃসময়ে একজন নিবেদিতপ্রাণ যোদ্ধা হিসেবে বিএনপির চেয়ারপারসনের পাশে থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দলের প্রতি আনুগত্যবোধ এবং প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে ক্রীড়ার মানোন্নয়নে তাঁর অবদানের জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘বিএনপির জন্মলগ্ন থেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দলকে সুসংগঠিত করতে তাঁর ভূমিকার কথা দলের নেতাকর্মীরা কোনোদিন বিস্মৃত হবে না। দেশের বর্তমান দুঃসময়ে তাঁর না ফেরার দেশে চলে যাওয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হলো। দেশের মানুষকে অকৃত্রিম ভালোবাসায় কাছে টেনে নেওয়ার এক সহানুভূতিসম্পন্ন মানুষ মরহুম ফজলুর রহমান পটলের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছি। তাঁর মতো একজন অকপট, সরল, আত্মবিশ্বাসী ও হৃদয়বান মানুষের মৃত্যুতে দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা আজ গভীর শোকে মুহ্যমান।’
অনুরূপ এক শোকবার্তায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও রাকসুর সাবেক ভিপি রুহুল কবির রিজভী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও রাকসুর সাবেক ভিপি ফজলুর রহমান পটলকে স্বাধীনতাত্তোরকালের একজন তুখোড় ছাত্রনেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ‘অনন্য বাগ্মী, দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ফজলুর রহমান পটলের মৃত্যুতে দেশবাসী, এলাকার জনগণ ও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মন্ত্রী হিসেবে তাঁর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি একজন জাতীয় রাজনীতিবিদ হিসেবে সবার প্রতি তাঁর বন্ধত্বসুলভ আচরণের জন্য তিনি সব মহলে ছিলেন সমাদৃত। ফজলুর রহমান পটল স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত একটি নাম। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দেশ ও মানুষের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করায় তিনি মানুষের মনে চিরজাগরুক হয়ে থাকবেন। বর্তমানের এই দুঃসময়ে তাঁর পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়া দেশ ও দলের মধ্যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো।
খালেদা জিয়া, মির্জা ফখরুল ও রুহুল কবির রিজভী মরহুম ফজলুর রহমান পটলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবার, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে কলকাতার রবীন্দ্র হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফজলুর রহমান পটল (৬৫) মারা যান। আগামীকাল শনিবার তাঁর মরদেহ দেশে আনা হবে।

অনলাইন ডেস্ক