রাবি শিক্ষিকার সুইসাইড নোট উদ্ধার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহানের (৪৫) একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে ওই শিক্ষিকার লাশ উদ্ধার করা হয়। জুবেরি ভবন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আবাসস্থল।
পুলিশ জানায়, কক্ষটি বন্ধ ছিল। ভেতরে ঢুকে আকতার জাহানের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই ভবনে একাই থাকতেন। ঘরের বিছানার মশারির ভেতরে আকতারের লাশ পড়ে ছিল। তাঁর মুখ দিয়ে লালা ঝরার দাগ ছিল। পরে তাঁর লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, রাত ৮টার দিকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক জুবেরি ভবনে আকতার জাহানের কক্ষে যান। তখন একটি কম্পিউটারের নিচ থেকে এই সুইসাইড নোটটি উদ্ধার করা হয়।
আকতার জাহান গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদের প্রাক্তন স্ত্রী। বছর তিনেক আগে তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। তার পর থেকে আকতার জুবেরি ভবনে একাই থাকতেন। তাঁদের আয়মান সোয়াদ আহমেদ নামে একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। সে ঢাকায় পড়াশোনা করে।
সুইসাইড নোটে আকতার জাহান উল্লেখ করেন, ‘আমার মৃত্যু জন্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক, মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করলাম।’
‘সোয়াদকে যেন ওর বাবা কোনোভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে। যে বাবা সন্তানের গলায় ছুরি ধরতে পারে- সে যে কোনো সময় সন্তানকে মেরেও ফেলতে পারে বা মরতে বাধ্য করতে পারে।’
‘আমার মৃতদেহ ঢাকায় না নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেওয়ার অনুরোধ করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা