এক কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৯৭%, তাবিথ পেয়েছেন ১ ভোট!
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২০টি কেন্দ্রে ১৫ শতাংশের কম ভোট পড়েছে। ১০ শতাংশের কম ভোট পড়েছে চারটি কেন্দ্রে। আবার কয়েকটি কেন্দ্রে দেখা গেছে একেবারে উল্টো চিত্র। সেখানে ভোট পড়েছে ৮০ শতাংশের বেশি। উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬ নম্বর পুরুষ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৯৭.২৬ শতাংশ!
একটি কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল পেয়েছেন মাত্র ১ ভোট। এই কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের আনিসুল হকের ভোটের সংখ্যা ৩০৬। এ ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১২ জন মেয়র পদপ্রার্থী মিলে যে ভোট পেয়েছেন, তার চেয়ে বেশি ভোট বাতিলই করা হয়েছে।
ঢাকা উত্তরের এক হাজার ৯৩টি ভোটকেন্দ্রের ফল বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আট লাখ ৭৪ হাজার ৫৮১টি ভোট বৈধ হয়েছে। এর মধ্যে দিন শেষে আনিসুল হক পেয়েছেন চার লাখ ৬০ হাজার ১১৭ ভোট। আর তাবিথ আউয়াল পেয়েছেন তিন লাখ ২৫ হাজার ৮০ ভোট।
তাবিথের ১ ভোট
নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ছিলেন মেয়র হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা আনিসুল হকের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী। যদিও ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টা পরই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। তবে দেখা গেছে, মিরপুরের পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তাবিথ আউয়াল পেয়েছেন ১ ভোট। একই কেন্দ্রে আনিসুল হকের ভোট ৩০৬টি।
প্রতি মিনিটে সোয়া ৫ ভোট
ঢাকা উত্তরের এক হাজার ৯৩টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল থেকে দেখা যায়, রাজধানীর উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছয় নম্বর পুরুষ কেন্দ্রেই ভোট পড়েছে ৯৭.২৬ শতাংশ! এই কেন্দ্রের দুই হাজার ৫৮৮ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন দুই হাজার ৫১৭ জন। প্রতি মিনিটে ভোট পড়েছে প্রায় সোয়া পাঁচটি।
কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের ফলে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়া অন্য কেন্দ্রগুলো হলো- বিএইচবিএফসি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১, পুরুষ)- ৮১.৫৮%, বিএইচবিএফসি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (কেন্দ্র-২, মহিলা)- ৮৪.৩০%, মাইলস্টোন প্রিপারেটরি কেজি স্কুল (কেন্দ্র-১, পুরুষ) -৮০.৭৭%। এসব কেন্দ্রে প্রতি মিনিটে ভোট পড়েছে চারটির মতো।
ভোটের হার যেখানে ৪ শতাংশ
কাফরুলের শহীদ পুলিশ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ (নিচতলা, পুরুষ) কেন্দ্রে ভোট পড়েছে মাত্র ৪.১৫ শতাংশ। এই কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিলেন এক হাজার ৮৫৫ জন। কিন্তু ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন মাত্র ৭৭ জন।
কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের ফলে ১৫ শতাংশের কম ভোট পাওয়া কেন্দ্রগুলো হলো- শহীদ পুলিশ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, কাফরুল (নিচতলা, পুরুষ) – ৪.১৫%, শহীদ পুলিশ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, কাফরুল (দ্বিতীয় তলা, পুরুষ) – ১০.২২%, শহীদ পুলিশ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, কাফরুল (নিচতলা, পুরুষ+মহিলা) – ১১.৭১%, পল্লবী মাজেদুল ইসলাম মডেল হাই স্কুল (মহিলা) – ১৪.০১%, পল্লবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (মহিলা)- ১২.১৩%, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় (মহিলা)- ১৩.৯৬%, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় (মহিলা)- ১৩.৩৪%, গ্রীন ভিউ হাইস্কুল (মহিলা) ১৪.০৭%, ইসলামী ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (মহিলা) ১৪.৩০%, কুড়িল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (মহিলা) ১০.৩৩%, মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কলেজ (মহিলা) -১২.৪৬%, গুলশান মডেল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (মহিলা)- ১১.৪৮%, আইপিএইচ স্কুল অ্যান্ড কলেজ (মহিলা) ১৪.২৬%, খালেদ হায়দার মেমোরিয়াল হাই স্কুল - ১৪.৮৪%, একরামুন্নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ১৪.৭৪%, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ১৪.৯১%, তেজগাঁও আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ (মহিলা) ৮.৪৬%, টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (মহিলা) ৯.৯৮%, টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (মহিলা) ৬.৬২%, তেজগাঁও মহিলা কলেজ (মহিলা) – ১৩.১৬%।
১২ মেয়র পদপ্রার্থীর চেয়ে বাতিল ভোট বেশি
উত্তরে ১০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন মাত্র দুজন প্রার্থী। ভোটের সংখ্যায় তৃতীয় অবস্থানে আছেন শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ। তিনি পেয়েছেন ১৮ হাজার ৫০ ভোট। ১৩ হাজার ৪০৭ ভোট পেয়ে চতুর্থ অবস্থানে আছেন মাহী বি চৌধুরী।
এই চারজন ছাড়া নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মোট ১২ জন প্রার্থী মিলে পেয়েছেন মাত্র ২৪ হাজার ৩৪৬ ভোট। আর প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, নির্বাচনে অবৈধ হিসেবে বাতিল করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৫৮১ ভোট। অর্থাৎ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১২ জন প্রার্থী মিলে যে ভোট পেয়েছেন তার চেয়ে বেশি ভোট বাতিলই করা হয়েছে।

হুমায়ুন কবীর