মরিয়া আওয়ামী লীগ, জয় ধরে রাখতে চায় বিএনপি
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আগামী ২০ মে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক প্যানেলের সিনিয়র আইনজীবীরা। সারা দেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণকারী এই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিতে দেশের বার সমিতিগুলোতে ঘুরছেন প্রার্থীরা। দিন যতই এগিয়ে আসছে, ততই সরগরম হয়ে উঠছে নির্বাচনী পরিবেশ।
নির্বাচনে জয়ের ধারা ধরে রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল। অন্যদিকে, দলীয় কোন্দল মিটিয়ে হারানো ‘রাজ্য’ পুনরুদ্ধারে মরিয়া আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল।
বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের সাধারণ আসনের প্রার্থী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক এ এম ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘এরই মধ্যে সারা দেশের ২০টি জেলা বার সমিতির ভোটারদের কাছে যাওয়া হয়েছে। ভোটারদের মধ্যে আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আশা করছি, আমরা পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হবো।’
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সমর্থক প্যানেলে সাধারণ আসনের প্রার্থী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের প্রচার চালানো শেষ করেছি। এখন ঢাকা বিভাগের প্রচার চলছে। ভোটাররা বিপুল সাড়া দিচ্ছেন। আশা করছি, পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হবো।’
বার কাউন্সিল সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে সারা দেশে ৪৮ হাজার ৪৬৫ আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। প্রতি তিন বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের মাধ্যমে ১৫ সদস্যের কাউন্সিলের মধ্যে ১৪ জন নির্বাচিত হন আইনজীবীদের ভোটে। এর মধ্যে সাধারণ আসন থেকে সাতজন ও সাতটি গ্রুপ আসন থেকে সাতজন নির্বাচিত হন। এই ১৪ জনের ভোটে নির্বাচিত হন একজন ভাইস চেয়ারম্যান। আর সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
সাধারণ আসনের প্রার্থীরা সারা দেশের আইনজীবীদের ভোটে নির্বাচিত হবেন। আর এক বা একাধিকবার সমিতির (যেসব এলাকা নিয়ে গ্রুপ গঠিত, সেসব এলাকার) ভোটে নির্বাচিত হবেন গ্রুপ আসনের প্রার্থীরা। এর মধ্যে ‘এ’ গ্রুপের মধ্যে রয়েছে বৃহত্তর ঢাকা জেলার সব স্থানীয় আইনজীবী সমিতি; ‘বি’ গ্রুপে বৃহত্তর ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও ফরিদপুর জেলার অন্তর্গত সব স্থানীয় আইনজীবী সমিতি। ‘সি’ গ্রুপে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলা; ‘ডি’ গ্রুপে বৃহত্তর কুমিল্লা ও সিলেট জেলা; ‘ই’ গ্রুপে বৃহত্তর খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী জেলা; ‘এফ’ গ্রুপে বৃহত্তর রাজশাহী, যশোর ও কুষ্টিয়া এবং ‘জি’ গ্রুপে বৃহত্তর দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ও পাবনা জেলার অন্তর্গত সব স্থানীয় আইনজীবী সমিতি।
এবারের বার কাউন্সিল নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় পরিষদের প্যানেলে সাধারণ আসনে প্রার্থী হয়েছেন ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, অ্যাডভোকেট পরিমল চন্দ্র গুহ, অ্যাডভোকটে জেড আই খান পান্না ও অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম।
আর গ্রুপ আসনের মধ্যে ‘এ’ গ্রুপ থেকে কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, ‘বি’ গ্রুপ থেকে আলহাজ এইচ আর জাহিদ আনোয়ার, ‘সি’ গ্রুপ থেকে ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী, ‘ডি’ গ্রুপ থেকে সরোয়ার আহম্মেদ চৌধুরী আবদাল, ‘ই’ গ্রুপ থেকে পারভেজ আলম খান, ‘এফ’ গ্রুপ থেকে মো. ইয়াহইয়া ও ‘জি’ গ্রুপ থেকে মো. রেজাউল করিম।
অন্যদিকে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সাধারণ আসনে প্রার্থী হয়েছেন বার কাউন্সিলের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, বার কাউন্সিলের বর্তমান এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান এ জে মোহাম্মদ আলী, এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকন, ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, আলহাজ মো. বোরহান উদ্দিন ও মহসিন মিয়া।
এ ছাড়া গ্রুপ আসনে ‘এ’ গ্রুপ থেকে লড়ছেন গোলাম মোস্তফা খান, ‘বি’ গ্রুপ থেকে মোহাম্মদ আবদুল বাকি মিয়া, ‘সি’ গ্রুপ থেকে কবির চৌধুরী, ‘ডি’ গ্রুপ থেকে কাইমুল হক, ‘ই’ গ্রুপ থেকে আবদুল মালেক, ‘এফ’ গ্রুপ থেকে মো. ইসহাক ও ‘জি’ গ্রুপ থেকে এ কে এম হাফিজুর রহমান।
এবারের নির্বাচনে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল ছাড়াও ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী সমাজ নামে আরেকটি প্যানেল রয়েছে। এ প্যানেলে সাধারণ আসনে প্রার্থী হয়েছেন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, শাহ মো. খসরুজ্জামান, এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, সরওয়ার ই-দীন, মো. হেলাল উদ্দিন, আবদুল মোমেন চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম।
এই তিন প্যানেলের বাইরে যাঁরা আছেন, তাঁদের মধ্যে সাধারণ আসনে রয়েছেন আলহাজ মো. ইস্রাফিল, ড. মো. ইউনুস আলী আকন্দ, নাসির উদ্দিন আহম্মেদ অসীম, আবুল কালাম আজাদ, আবুল হোসেন, এনামুল কবির হাওলাদার, দেলোয়ার হোসেন মল্লিক, মাহবুব মিয়া, শওকত হায়াত, সামছুল হক ও সুলতান এ সবুর। নির্বাচনে তিনটি প্যানেল থাকলেও মূল লড়াই হবে মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে।
এর আগে কয়েক বছর ধরে বার কাউন্সিলে অধিকাংশ সদস্যপদে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি সমর্থক প্রার্থীরা। গত নির্বাচনেও আওয়ামী সমর্থকদের মধ্যে বিভেদের কারণে সাধারণ আসনে তারা মাত্র দুটি পদে জয়ী হয়েছিলেন। এবার সে জন্য তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্যানেল দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপি সমর্থকরাও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চাইছেন। এ কারণে এবারের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ২৫ মার্চ এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী গত ৯ এপ্রিল ভোটার তালিকা প্রকাশ করে সংস্থাটি। ২০ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে স্থাপিত ভোটকেন্দ্র, দেশের জেলা সদরের সব দেওয়ানি আদালত প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভোটকেন্দ্র এবং বাজিতপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, দুর্গাপুর, ভাঙ্গা, চকিন্দা, পটিয়া, সাতকানিয়া, ফটিকছড়ি, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, নবীনগর, পাইকগাছাসহ দেশের ১২ উপজেলা পর্যায়ে দেওয়ানি আদালত অঙ্গনের ভোটকেন্দ্রে এই ভোট গ্রহণ করা হবে।

জাকের হোসেন