দেশজুড়ে ভূমিকম্প, আতঙ্কে নিহত ২
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৫ মিনিটে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলা এই ভূমিকম্প দেশজুড়ে অনুভূত হয়। ভূমিকম্পে সারা দেশে দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ঢাকাস্থ আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মবিনুল ইসলাম জানান, দুপুর ১টা ৫ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে দেশজুড়ে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নেপাল। সেখানে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১। আর ঢাকা থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ৬১১ কিলোমিটার।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল চীনে। নেপালের কাঠমান্ডু থেকে এর দূরত্ব ৮৩ কিলোমিটার। রিখটার স্কেলে তীব্রতা ছিল ৭ দশমিক ৪। এ ভূমিকম্পে নেপালে ২৯, ভারতের বিহারে ১০ জন নিহত হয়েছেন।
সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, পঞ্চগড়: পঞ্চগড় জেলা শহরসহ পাঁচ উপজেলায় আজ দুই দফা ভূকম্পন অনুভুত হয়েছে। প্রথমবার ১টা ৬মিনিট থেকে ১টা ৭ মিনিট পর্যন্ত এবং দ্বিতীয়বার ১টা ৩৯ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। প্রথমবার প্রায় ২৫ সেকেন্ড পর্যন্ত ভূকম্পনের মাত্রা বেশি ছিল। ভূকম্পন টের পেয়ে ঘর থেকে লোকজন চিৎকার দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। পুকুর, নদীর পানিতে ওঠে তীব্র আলোড়ন। ভূকম্পনের ভয়ে ও আতঙ্কে এক বৃদ্ধা নিহত হন। আহত হয়েছেন আরো একজন।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ভূমিকম্পের ভয়ে ও আতঙ্কে নুরুন নাহার (৬২) নামের এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। তেঁতুলিয়া সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের নকলনবিশ সুইটি আক্তার (৩০) অফিসে পড়ে গিয়ে চেতনা হারিয়ে হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে সদর উপজেলার খুনিয়াপাড়া গ্রামে নুরুন নাহার নামের ওই বৃদ্ধা পুকুরে গোসল করছিলেন। ভূমিকম্পের সময় পানির তোলপাড় দেখে ভয়ে ও আতঙ্কে তিনি চিৎকার করে অচেতন হয়ে যান। পরিবারের লোকজন তাঁকে তেতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাখী সরকার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি ওই গ্রামের কলিমউদ্দিনের স্ত্রী।
অসীম মন্ডল, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু এবং এক গৃহবধু আহত হয়েছে। নিহত শিশু আমিনা খাতুন (১) মুলকান্দি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। একই গ্রামে আহত হন বাবলু সুত্রধরের স্ত্রী শান্তনা রানী (২৫)। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, আজ মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ ভূমিকম্প অনুভূত হলে আতঙ্কে সবাই ঘর-বাড়ি থেকে বাইরে বের হয়ে আসে। এসময় শিশু কন্যা আমিনা ঘরের মধ্যে ছিল। হঠাৎ আতংকে শিশুটি চিৎকার দিলে তার মা দৌড়ে গিয়ে তাকে বুকে তুলে নেয়।এ সময় মায়ের বুকেই মারা যায় শিশুটি।
দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জে ভূ-কম্পনের সময় তাড়াহুড়া করে বিদ্যালয় ভবন থেকে বের হতে গিয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রতারগাঁও উচ্চবিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এর মধ্যে তিন ছাত্রীকে সুনামগঞ্জ সদর হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর বাড়ি চলে যায়। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল হালিম জানান, ভূমিকম্পের সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাড়াহুড়া করে বের হতে গিয়ে আঘাত পায়। এর মধ্যে তিন ছাত্রীকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি জানান, এর আগে ভূমিকম্পে ওই বিদ্যালয়ের একটি ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছিল।
ভজন দাস, নেত্রকোনা: নেত্রকোনায় দুপুর ১টা ১১ মিনিটের দিকে জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনূভুত হয়েছে। এ সময় স্কুল কলেজ,অফিস ও ঘরবাড়ী থেকে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে রাস্তায় বেড়িয়ে আসে।
এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা: পাবনায় ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে দুপুরে সোয়া ১টার দিকে। প্রায় ২০ সেকেন্ড স্থায়ী ভূ-কম্পনে আতঙ্কিত লোকজন অফিস, বাসা, দোকান ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। কেউ চিৎকার করে মানুষদের বাইরে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। রাস্তায় চলাচলকারী মানুষও থমকে দাঁড়ায়। তবে পাবনার কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

অনলাইন ডেস্ক