ভেজাল ওষুধ : প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ নয়
ওষুধের চোরাচালান, ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও অপারেশনে ব্যবহৃত মানহীন সামগ্রী ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
জনস্বার্থে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্যসচিব, ওষুধ প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক ও পরিচালককে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি একটি দৈনিকে ‘আসছে ব্যবহৃত সুই-সিরিঞ্জ ও জালিয়াতি করে শত কোটি টাকার ওষুধ আমদানি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অর্গানাইজেশন অব সোশ্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট চেঞ্জেস নামক একটি সংগঠনের সেক্রেটারি গোলাম সরোয়ার জনস্বার্থে এ রিট করেন।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম জহুরুল ইসলাম, তাঁকে সহযোগিতা করেন মিজানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।
দৈনিকটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনসহ বিভিন্ন দেশের হাসপাতালে ব্যবহৃত সুই-সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেট রি-প্যাকিং (পুনঃমোড়কজাতকরণ) করে বাংলাদেশে বাজারজাত করছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। পাশাপাশি কাগজপত্রে অন্য পণ্যের নাম ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা হচ্ছে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম। অবৈধভাবে আসা এসব ওষুধ ও সরঞ্জামের মানদণ্ড নিশ্চিত না করে বাজারজাত করায় এগুলো সেবন ও ব্যবহার মানবদেহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, এইচআইভি এইডসসহ সুই দ্বারা সংক্রমিত যেকোনো প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সব সময় থাকছে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

জাকের হোসেন