এক বছর ধরে বিদ্যুৎহীন ২০০০ পরিবার
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ও চরনাছিরপুর ইউনিয়নের প্রায় দুই হাজার পরিবার দীর্ঘ এক বছর ধরে বিদ্যুৎবিহীন জীবন যাপন করছে।
সাবমেরিন ক্যাবলের তার ছিড়ে যাওয়ার পর থেকে এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ চরবাসী চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের সময় চরাঞ্চলে বসানো সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যায়। এরপর থেকে এলাকাবাসী বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ ও দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী বা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নারিকেলবাড়িয়া চরের মোজাফফরপুর গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, এক বছর ধরে আমরা অন্ধকারে আছি। রাতে শিশুদের পড়াশোনা করানো যায় না। মোবাইল চার্জ দিতে নদী পাড়ি দিয়ে অন্য ইউনিয়নে যেতে হয়। জীবনটা অনেক কষ্টকর হয়ে গেছে।
আরেক বাসিন্দা রাজা মল্লিক বলেন, ফ্রিজ, পাখা, টেলিভিশন সব অকেজো হয়ে পড়ে আছে। বাজার বা মাছ মাংস কিছু সংরক্ষণ করা যায় না। গরমে ছোট বাচ্চা আর বৃদ্ধদের কষ্ট দেখতে কষ্ট হয়।
দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন সরদার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় শুধু সাধারণ মানুষ নয়, এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। দোকানে ফ্রিজার, লাইট কিংবা ফ্যান চালাতে না পারায় তাদের ব্যবসা প্রায় অচল হয়ে গেছে। আমি নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আশা করি খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে এবং মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ইউনিয়ন দুটি পদ্মা নদী বেষ্টিত হওয়ায় এখানকার বিদ্যুৎ লাইন রক্ষণাবেক্ষণ কঠিন। ক্যাবল মেরামত এবং নতুন করে বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনে সময় ও বাজেটের প্রয়োজন রয়েছে। তবে তিনি দ্রুত সমস্যাটি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, চরাঞ্চলে বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। তারা জানিয়েছে, ক্যাবলটি মেরামতের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।
এদিকে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তিতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। তারা অবিলম্বে স্থায়ী সমাধান ও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছে।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর