নির্বাচন কমিশনের ‘সংলাপ’ আজ
নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রথমবারের মতো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসতে যাচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর)। একই দিনে ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ লকডাউন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ায় রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৪ প্লাটুন বিজিবিসহ দেশজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ কর্মসূচিকে ঘিরে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাসে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর এটা দলটির দ্বিতীয় কোনো কর্মসূচি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলগুলোর সঙ্গে কোনো এজেন্ডা ছাড়াই এ সংলাপে বসতে যাচ্ছে ইসি। সংলাপের প্রথমদিন আজ বৃহস্পতিবার দুই ধাপে ১২টি দলের সঙ্গে সংলাপ হতে যাচ্ছে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি।
ইসির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, পর্যায়ক্রমে নিবন্ধিত অন্য দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে কমিশন। তবে, নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগকে সংলাপে ডাকবে না ইসি।
এদিকে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকা ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের সংলাপে না ডাকার আহ্বান জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে দলটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাত করে এ দাবি জানায়।
দলটির পক্ষ থেকে একটি আবেদন ইসিকে দেওয়া হয়। পরে রাশেদ খান সাংবাদিকদের বলেন, নিবন্ধনের দোহাই দিয়ে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নির্বাচন কমিশনের সংলাপে ডাকা উচিত হবে না।
আগামী ডিসেম্বরের শুরুতে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইসি। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এ সংলাপ। সকালে সংলাপে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আর বিকেলে ডাকা হয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম।
সংলাপে আওয়ামী লীগের শরিকদের আমন্ত্রণ জানালে আন্দোলন হতে পারে ইসিকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। ইসিকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের দোসর ১৪ দলীয় জোটসহ যারা ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে অংশ নিয়ে শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বৈধতা দিয়ে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে, তাদের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক কোন সংলাপে না ডাকার অনুরোধ করছি।
চিঠিতে দলটি জানিয়েছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যে দলগুলোকে নিয়ে আলোচনা করেছে, শুধু সেই দলগুলোকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনেরও সংলাপ করার আহ্বান করছি। অন্যথায় ফ্যাসিবাদের দোসররা নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপ করার সুযোগ পেলে, সেটি হবে ছাত্র-জনতার রক্তের সাথে প্রতারণা। এমনকি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক এমন কোন পদক্ষেপ নেওয়া জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করতে পারে। সেটি নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক