মক ভোটিংয়ে ৩০ জনের ভোটপ্রতি গড় সময় দেড় মিনিটের বেশি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি যাচাই করতে শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে ‘মক ভোটিং’ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ঘণ্টায় ভোট পড়ে ১০৬ জনের। সকাল সাড়ে ৯টার আগেই রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পৌঁছান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল সানাউল্লাহ। তিনি কেন্দ্রের চারটি কক্ষ পরিদর্শন করেন। এ সময় সাংবাদিকসহ অনেকে ভোট কক্ষে প্রবেশ করায় কিছুটা জটলা সৃষ্টি হয়। কাজের অসুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় কমানোর অনুরোধ জানান।
ভোট কক্ষ খালি হওয়ার পর কমিশনার সানাউল্লাহ ইসির কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, এভাবে বিশৃঙ্খলা থাকলে মক ভোটিংয়ের সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব নয় এবং এ মহড়া থেকে বাস্তব উপকার মিলবে না।
ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশনায় ৩০ জন ভোটারকে আলাদা লাইনে দাঁড় করিয়ে ভোট দিতে বলা হয়। এর লক্ষ্য ছিল, একজন ভোটার ভোট দিতে প্রকৃতপক্ষে কত সময় নিচ্ছেন তা নিরূপণ করা। তিনি বলেন, ইসি ভোটের সময় ব্যবস্থাপনা বুঝতে চায়, বিশেষ করে যেহেতু এবার জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও হবে।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আরও জানান, কেন্দ্রটিতে ডাকা হয়েছিল ৫০০ ভোটারকে। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৫২ জন, যা মোট ভোটারের ৭০ শতাংশ।
ইসির অন্তত দুজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, মোট ৩৫২ জন ভোটারের মধ্যে ৩০ জনের ভোট দেওয়ার সময় আলাদাভাবে গণনা করা হয়। সময় কম-বেশি হলেও গড়ে প্রতিজন ভোটার ভোট দিতে দেড় মিনিটের বেশি সময় নিয়েছেন।
ইসি সূত্র জানায়, মক ভোটিংয়ের সমস্ত পর্যবেক্ষণ নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। এতে ভোট শুরুর পর থেকে শেষ পর্যন্ত কোন জটিলতা দেখা দিয়েছে, ভোট প্রক্রিয়ার প্রবাহ কেমন ছিল, ভোটকক্ষ বাড়ানো প্রয়োজন কি না, ভোট দিতে গড়ে কত সময় লেগেছে- এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবে।
মক ভোটিং কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, চারটি বুথে ভোটগ্রহণ চলছিল। ৩০ জনের আলাদা পরীক্ষা-ভোটের বাইরে সাধারণ ভোটারদের ভোট দেওয়ার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দ্রুত ভোট সম্পন্ন করার অনুরোধ করছিলেন। এ সময় এক ভোটার জানান, গোপন কক্ষে ঢুকে গণভোটের চারটি প্রশ্ন পড়তে এবং বুঝতে তার অসুবিধা হয়েছে, ফলে তার ভোট দিতে ৩ মিনিট সময় লেগেছে।
বয়স্ক ভোটার এ.কে আবু হানিফ বলেন, ভোট দিতে এসে গণভোটে কী থাকবে সে বিষয়ে আগে থেকে কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি। আগে জানালে বিষয়গুলো ভালোভাবে বোঝা যেত। তবু তিনি হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন এবং বেশি সময় লাগেনি বলেও জানান। একই কেন্দ্রের আরেক ভোটার হাফিজুর রহমান বলেন, তিনি গণভোট দিয়েছেন কিন্তু প্রশ্নগুলো না পড়ে; আগেই জানালে প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হতো।
ইসি সূত্র বলছে, আজকের মক ভোটিংকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করবে কমিশন। কোথায় সমস্যা দেখা দিয়েছে, কী করা প্রয়োজন-এসব বিবেচনায় নিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের সার্বিক কার্যপ্রণালি সাজানো হবে।
মহড়া পরিদর্শন শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, আজকের মহড়ার উদ্দেশ্য আদর্শ একটি পোলিং সেন্টারের পরিস্থিতি বাস্তবে দেখা। ভোটারদের কিউ, পোলিং অফিসার ও প্রিসাইডিং অফিসারদের কর্মকৌশল, সাংবাদিক-পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে সম্ভাব্য পরিস্থিতি- সবই হাতে-কলমে যাচাই করা হচ্ছে।
সিইসি বলেন, প্রথমবারের ভোটারসহ অনেকে কখনও ভোট দেননি। মক ভোটিং তাদের হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। পাশাপাশি কমিশন ভোট গ্রহণের পুরো সময় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা মূল্যায়ন করছে। যেহেতু নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, তাই সময় ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। এবার অতিরিক্ত গণভোট পরিচালনার কারণে সময় ব্যবস্থাপনা পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। তাই আজকের রিয়েল টাইম মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৪২ হাজার ৫০০ পোলিং সেন্টার যথেষ্ট কি না বা বুথ বাড়ানো প্রয়োজন কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মাসুদ রায়হান পলাশ