পাবনার অলিগলিতে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের ব্যানার-বিলবোর্ডের ছড়াছড়ি
পাবনা শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক—প্রায় সর্বত্রই এখন ঝুলছে অসংখ্য ব্যানার ও বিলবোর্ড। ল্যাম্পপোস্ট, বিদ্যুতের খুঁটি, রাস্তার পাশের গাছ এমনকি ছোট মোড়গুলোও ঢেকে গেছে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের প্রচারণামূলক তোরণে। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিতে এক অঘোষিত প্রতিযোগিতায় নেমেছেন প্রার্থীরা, যাতে ম্লান হয়ে যাচ্ছে শহরের নান্দনিকতা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব ব্যানার ও বিলবোর্ডে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের বড় ছবির পাশাপাশি দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছবি ব্যবহার করেছেন। শুধু পাবনা পৌরসভা নয়, জেলার ৯টি পৌর শহরের চিত্রই এখন প্রায় একই রকম। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব ব্যানার বাতাসে উড়ছে, যা অনেক সময় পথচারী ও যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব প্রচারণার সিংহভাগই বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের। তারা আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে আগেভাগেই নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। তবে সচেতন মহলের মতে, এভাবে যত্রতত্র ব্যানার টাঙানো দলীয় শৃঙ্খলার ঘাটতিরই বহিঃপ্রকাশ। রাজনৈতিক দলের ভেতরে যথাযথ ‘চেইন অব কমান্ড’ না থাকলে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে মনে করছেন তারা।
পরিবেশ সচেতন নাগরিক ও নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত বিলবোর্ডের কারণে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুতের তারের সঙ্গে ব্যানার জড়িয়ে যাওয়ায় শর্ট সার্কিট ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টির মৌসুমে এসব ঝুলে থাকা ব্যানার জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘নেতাকর্মীরা সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে এসব বিলবোর্ড ও ব্যানার লাগিয়েছেন। এরসঙ্গে দলের সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা বা দায় নেই।’
পাবনা পৌরসভার প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান জানান, শহরকে যানজটমুক্ত ও নান্দনিক রাখতে অবৈধ বিলবোর্ড ও ব্যানার অপসারণের বিষয়ে তারা অবগত আছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, রাজনৈতিক প্রচারণা অবশ্যই গণতন্ত্রের অংশ, তবে তা হওয়া উচিত সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব। পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা