নির্বাচনের তফসিল ও গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে আজ ইসির বৈঠক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ চূড়ান্ত করা এবং একইসঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে আজ রোববার (৭ ডিসেম্বর) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি, লজিস্টিক ও প্রস্তুতিমূলক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হবে।
আরও পড়ুন : নির্বাচনী কর্মীদের পোস্টাল ভোট নিবন্ধন ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আজকের বৈঠকের একটি মূল সিদ্ধান্ত হবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিনক্ষণ ঠিক করা।
রেওয়াজ অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার আগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে থাকে। সেই অনুযায়ী, ইসি আগামী বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছে। এই সময়সূচি অনুসারে, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ঘোষণা করা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এবার নির্বাচন কমিশনের সামনে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ হলো একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট—উভয়ই আয়োজন করা। এতে একজন ভোটারকে দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দিতে হবে।
আরও পড়ুন : তফসিলের আগে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ চায় ইসি
ভোটারপ্রতি বেশি সময় লাগার বিষয়টি মাথায় রেখে ইসি কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে গোপন কক্ষ বৃদ্ধি করা। সম্প্রতি আয়োজিত ‘মক ভোটিং’ এর তথ্যের ভিত্তিতে ইসি প্রতিটি ভোটকক্ষে সিল মারার জন্য নির্ধারিত গোপন কক্ষের সংখ্যা একটি থেকে বাড়িয়ে দুটি করার পরিকল্পনা করছে। এতে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়িয়েই দ্বৈত ভোট গ্রহণ সম্ভব হবে। ইসির আরেকটি পরিকল্পনা হলো ভোটগ্রহণের সময় বৃদ্ধি করা। দ্বৈত ভোটের প্রক্রিয়া সামাল দিতে কমিশন মোট ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর পরিকল্পনাও করছে।
এদিকে ইসি সূত্র জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার পূর্ববর্তী সব গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস, আইন ও বিধিমালার সংস্কার, অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ এবং নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
আরও পড়ুন : নিবন্ধন পাচ্ছে আরও দুটি রাজনৈতিক দল
এ ছাড়া নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংগ্রহ শেষ হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত ভোটার, নিজ এলাকার বাইরে থাকা সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের নিবন্ধন প্রক্রিয়া বর্তমানে ‘পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের’ মাধ্যমে চলছে এবং তা ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক